তৃণমূল আমলে কত অবৈধ নির্মাণ পেল বৈধতা, ফাইল খতিয়ে দেখতে এবার অডিটের কড়া নির্দেশ কলকাতা পুরসভায়

কলকাতা শহরে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এবার তৃণমূল জমানায় জরিমানার বিনিময়ে কতগুলি বেআইনি নির্মাণকে বৈধতা (রেগুলারাইজ়েশন) দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে বিগত বছরগুলির বিল্ডিং রেগুলারাইজ়েশন সংক্রান্ত পুরনো সমস্ত ফাইলের অভ্যন্তরীণ অডিটের নির্দেশ দিয়েছেন। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগকে এই সমস্ত নথিপত্র এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেই এই বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বে থাকায় এই অডিটের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
তদন্তের নেপথ্য কারণ
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভা ও প্রশাসনকে একাধিকবার কড়া অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে। বহু জায়গায় বেআইনি বহুতল ভাঙতে বুলডোজার অভিযানও চালানো হয়েছে। তবে এর সমান্তরালে বিপুল অঙ্কের জরিমানার বিনিময়ে বহু অবৈধ নির্মাণকে আইনি সিলমোহর দেওয়ার অভিযোগও উঠছিল। পুরসভার একাংশের মতে, নিয়মের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই বৈধতার খেলা চলেছে কি না এবং এর মাধ্যমে ঠিক কত সংখ্যক অবৈধ নির্মাণকে রেগুলারাইজ়ড করা হয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ্যে আনাই এই অডিটের মূল লক্ষ্য।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বনাম রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল
পুরসভার এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বভাবতই শোরগোল পড়ে গিয়েছে ভেতরের মহলে। যদিও বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের একটি অংশ দাবি করেছেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করতে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ অডিট একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। একে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত জলঘোলা করার কোনও কারণ নেই। তবে বিরোধীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, বেআইনি নির্মাণকে বৈধ করার আড়ালে বড়সড় দুর্নীতি লুকিয়ে রয়েছে। এই অডিট রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে কার আমলে কত সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই বিতর্কের জল অনেকটাই স্পষ্ট হবে। আপাতত পুরসভার অভ্যন্তরীণ এই তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।