কত পুরুষ ‘লক্ষ্মী’? ১৫টি অ্যাকাউন্টের মালিক মুস্তাফিজুর, দুর্নীতির পর্দাফাঁস করলেন শুভেন্দু

কত পুরুষ ‘লক্ষ্মী’? ১৫টি অ্যাকাউন্টের মালিক মুস্তাফিজুর, দুর্নীতির পর্দাফাঁস করলেন শুভেন্দু

পুরুষের নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! দুর্নীতির অভিযোগে এসআইটি গঠনের নির্দেশ শুভেন্দুর

রাজ্যজুড়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির পর্দাফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি এই প্রকল্পের অর্থ হাতানোর জন্য পুরুষদের নামে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এই ব্যাপক অনিয়মের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভুয়া অ্যাকাউন্টের জালে সরকারি অর্থ লোপাট

সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ২২টি ভুয়া অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে, যার মাধ্যমে পুরুষরা অন্যায়ভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আত্মসাৎ করছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর নামে ১৫টি এবং তারিকুল রহমান নামক এক ব্যক্তির ৬টি অ্যাকাউন্টের তথ্য সামনে এসেছে। শুধু জঙ্গিপুরেই প্রায় ৩ হাজার ভুয়ো নামের অস্তিত্ব থাকার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। এই চক্রের সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের করের টাকা লুটকারী এই চক্রের শেকড় তৃণমূল স্তর থেকে নির্মূল করা হবে।

কেন ১১ পাতার ফর্ম, স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী

সম্প্রতি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের জন্য ১১ পাতার দীর্ঘ ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আগে থেকেই বহু ভুয়ো সুবিধাভোগী ঢুকে পড়েছিল। তাই এবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রতিটি পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থান সঠিকভাবে যাচাই করতেই এই বিশদ তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অনুপ্রবেশকারী ও লুটেরাদের চিহ্নিত করে প্রকৃত প্রাপকদের হাতেই যেন সরকারি সহায়তা পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *