শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ‘উত্তরবঙ্গ জয়’: আলিপুরদুয়ারে অকাল দীপাবলি, নজির গড়লেন তরুণ বিরাজ!

উত্তরবঙ্গকে পাখির চোখ করে নতুন মন্ত্রিসভার রূপরেখা শুভেন্দুর
বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতার অলিন্দে পরিবর্তনের নতুন হাওয়া বইছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী সোমবার রাজভবনে ৩৫ জন নতুন মন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করালেন। এই সম্প্রসারণে উত্তরবঙ্গকে যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা মন্ত্রিসভার তালিকা দেখলেই স্পষ্ট। শিলিগুড়ির শংকর ঘোষ থেকে শুরু করে আলিপুরদুয়ারের তিন বিধায়কের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ।
আলিপুরদুয়ারে উৎসবের আমেজ ও মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ
আলিপুরদুয়ার থেকে একসঙ্গে তিন বিধায়ক—দীপক বর্মন, মনোজ ওরাওঁ এবং বিশাল লামা—মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় জেলাজুড়ে অকাল দীপাবলির আবহ তৈরি হয়েছে। ডুয়ার্সের চা বলয় এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এই জেলার উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। উত্তরবঙ্গ থেকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শংকর ঘোষ এবং স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে মালতি রাভা রায়ের শপথগ্রহণ অঞ্চলটিতে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার ইঙ্গিতবাহী।
তরুণ তুর্কি বিরাজের নজির ও ভবিষ্যতের পথ
মন্ত্রিসভার নতুন মুখদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির ৩২ বছর বয়সী বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। রাজ্যের কনিষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া এই তরুণ নেতা দাড়িভিট আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত। এবিভিপি-র ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা বিরাজের লড়াকু মানসিকতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর আস্থা রেখেই তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ শেষ হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠকে বসেছেন, যেখানে মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মূলত উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ দূর করা এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য।