অন্নপূর্ণা যোজনার ১১ পাতার ফর্ম কেন? রহস্য ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিয়ে জল্পনা কাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!
রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার পরেই বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি ঘোষণা করেন যে, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অনলাইন ফর্ম পূরণ আজ থেকেই শুরু হয়ে গেছে। এর আগে পর্যন্ত এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া শুধুমাত্র অফলাইনেই সীমাবদ্ধ ছিল।
কেন ১১ পাতার দীর্ঘ ফর্ম
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের দীর্ঘ কলেবর নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তির জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রকল্পের প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতেই এই বিস্তারিত ফর্মের প্রয়োজন। অতীতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের নাম করে যে ব্যাপক দুর্নীতি ও জালিয়াতি হয়েছে, তা যাতে অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই সম্ভব না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই কঠোর নজরদারি ও তথ্যের যাচাই নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্যের ২০ জন ঊর্ধ্বতন আধিকারিককে জেলাভিত্তিক মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
সাংবাদিক বৈঠকে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে হওয়া দুর্নীতির বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যে এমন ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে, যেখানে মহিলারা নয়, বরং পুরুষরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা তুলেছেন। মুস্তাফিজুর রহমান ও রাকিবুল শেখের মতো ব্যক্তিদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে এবং এর মাধ্যমে অন্তত ৩০ লক্ষ সরকারি টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ধরণের জালিয়াতি রুখতে এবং লুটের টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, প্রকৃত উপভোক্তাদের পাওনা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী বুধবার থেকেই বড় আকারে টাকা ট্রান্সফারের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।