২০ টাকার ঢেঁড়স কিনতে গিয়েও তো টিপে দেখেন! অন্নপূর্ণার বিশাল ফর্ম নিয়ে শুভেন্দুর মোক্ষম জবাব

২০ টাকার ঢেঁড়স কিনতে গেলেও টিপে দেখেন আর সরকার কেন এসব করবে না! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্যে জোর চর্চা
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনপত্রের বিশাল আকার এবং তথ্যের ব্যাপকতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে নবান্নে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রকল্পের ফর্ম কেন এত বড় এবং এতে কেন এত তথ্য চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় নিরসনে মুখ্যমন্ত্রী ঢেঁড়স কেনার উদাহরণ টেনে বলেন, সাধারণ মানুষ যখন ২০ টাকার সবজি কিনতে গেলেও খুঁটিয়ে দেখেন, তখন বছরে ৩৬ হাজার টাকা প্রদানের মতো বড় সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করাটাই স্বাভাবিক এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।
প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিতকরণই লক্ষ্য
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা। অতীতে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও ভুয়ো তথ্যের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ইমাম ভাতা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং যুবশ্রীর মতো প্রকল্পগুলোতে যথাযথ যাচাইয়ের অভাব ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হতেই ইতিমধ্যেই বহু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তাই এই প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়ো না করে ধাপে ধাপে সব আবেদন পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে যোগ্য প্রাপকদের বাদ দিয়ে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি সুবিধা নিতে না পারেন।
প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গতি
বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ আবেদন যাচাই করা হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অগ্রগতি নিয়ে প্রতি সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা আপডেট দেবেন বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, আগের সরকারের নীতিহীনতার কারণেই বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়নি, যার উদাহরণ হিসেবে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের নাম উল্লেখ করে অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, সরকার চায় না সরকারি টাকা ভুল মানুষের পকেটে যাক, তাই বর্তমান প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া বজায় রাখা হবে। প্রতিটি যোগ্য আবেদনকারীর কাছে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাজ্য সরকার।