মে মাসে জিএসটি সংগ্রহ ১.৯৪ লক্ষ কোটি টাকা, বৃদ্ধি পেল আমদানি শুল্ক

মে মাসে জিএসটি সংগ্রহ ১.৯৪ লক্ষ কোটি টাকা, চাঙ্গা আমদানি বাণিজ্য
দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক জিএসটি সংগ্রহ মে মাসেও ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে। সোমবার অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলিয়ে মে মাসে মোট ১.৯৪ লক্ষ কোটি টাকার গ্রস জিএসটি সংগৃহীত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংগ্রহ ৩.২ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের মে মাসে এই পরিমাণ ছিল ১.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা।
আমদানি খাতে বড় লাফ
চলতি বছরের মে মাসে জিএসটি সংগ্রহের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল আমদানি খাত। এই ক্ষেত্র থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৯,৬৫৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১৯.১ শতাংশ বেশি। তবে সামগ্রিক চিত্রের বিপরীত দিকে রয়েছে অভ্যন্তরীণ বা ডোমেস্টিক জিএসটি সংগ্রহ। এ ক্ষেত্রে ২.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৩৪ লক্ষ কোটি টাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি খাতে প্রবৃদ্ধি বাণিজ্যিক প্রসারের ইঙ্গিত দিলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে কর সংগ্রহের এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্থানীয় ব্যবসা ও ভোগব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে।
আয়ের সামঞ্জস্য ও ব্যবসায়িক চক্র
এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে জিএসটি সংগ্রহ প্রায় ১৮.১ শতাংশ বা ৪৩,০০০ কোটি টাকা কমেছে। এপ্রিল মাসে এই সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ২.৪৩ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই হ্রাস খুব অস্বাভাবিক নয়। সাধারণত মার্চ মাসে অর্থবর্ষের শেষ সময়ে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও কর জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া তুঙ্গে থাকে, যার প্রতিফলন এপ্রিল মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়। এছাড়া গত বছর মে মাসে একটি টেলিকম সংস্থার স্পেকট্রাম বরাদ্দের ১০,০০০ কোটি টাকার এককালীন পেমেন্ট বাদ দিলে, এ বছরের প্রকৃত রাজস্ব বৃদ্ধির হার প্রায় ৯ শতাংশে পৌঁছায়, যা দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতারই বার্তা দেয়।