অভিষেকের ওপর হামলার ঘটনায় বিজেপির দিকেই আঙুল, অধরা নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের দিকেও তোপ তৃণমূলের

অভিষেকের ওপর হামলার ঘটনায় বিজেপির দিকেই আঙুল, অধরা নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের দিকেও তোপ তৃণমূলের

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই ঘটনায় জড়িত ১১ জন হামলাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শনিবার সোনারপুরের কামরাবাঁধে অভিষেকের ওপর হামলার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে, এটি হয়তো শাসকদলের অন্দরের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত এবং তৃণমূলের দায়ের করা অভিযোগপত্র সেই জল্পনা উড়িয়ে দিচ্ছে। শাসকদলের দাবি, ধৃত ও চিহ্নিত ব্যক্তিদের সিংহভাগই সরাসরি গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে যুক্ত।

হামলার নেপথ্যে গেরুয়া যোগ ও সুনির্দিষ্ট ছক

তৃণমূলের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা অতীতে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ থাকলেও বর্তমানে তারা প্রত্যেকেই বিজেপির সক্রিয় সদস্য এবং দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং ইট-পাটকেল ছোড়ার পাশাপাশি তাঁর কলার টেনে ধরে মারধর করা হয়। তৃণমূলের দাবি, এই হামলার মূল চক্রী বিজেপির জেলা কো-অর্ডিনেটর অভিজিৎ বিশ্বাস। এছাড়া সুমন দত্ত ও সুদীপ হালদার সাংসদকে ঘিরে ধরেছিল এবং আকাশ গায়েন নামের এক যুবকের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে মারাত্মক, যার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অশান্তির রেকর্ড রয়েছে। সুস্মিতা দত্ত, তিয়াসা বিশ্বাস, বাপি মাঝির মতো স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীদের নামও এই তালিকায় রয়েছে।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তাপ

এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় স্থানীয় বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার এবং সোনারপুর থানার আইসি-র ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, দুপুর দুটো থেকেই কামরাবাঁধে ডিম ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলাকারীরা জড়ো হয়েছিল, যার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। পুলিশকে আগাম তথ্য দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে যাওয়ার পরেও প্রশাসন যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আঁচ পেয়েও পুলিশের এই উদাসীনতা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বারুইপুরের পুলিশ সুপার ও সোনারপুরের আইসি-কে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।

এই ঘটনার প্রভাব রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বেশ সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বিজেপির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মাথায় হেলমেট না থাকলে বড়সড় দুর্ঘটনা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারত। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন রাজ্যজুড়ে তৃণমূল-বিজেপি রাজনৈতিক সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিতে পারে, অন্যদিকে ভিভিআইপি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের অন্দরেও বড়সড় রদবদল বা কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *