হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন কৌশলে ইরান কুপোকাত, ভারতীয় জাহাজের যাতায়াত ঘিরে রহস্য

যুদ্ধের আঁচে উত্তপ্ত গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জেরে বর্তমানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাতের অন্ধকারে মার্কিন সেনার বিশেষ সহায়তায় একের পর এক পণ্যবাহী জাহাজ এই বিপজ্জনক জলপথ পার করছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। গত তিন সপ্তাহে ইরানের নজর এড়িয়ে অন্তত ৭০টি বাণিজ্যতরী হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলিও এই পারাপারের জন্য আমেরিকার সাহায্য নিচ্ছে? যদিও এই বিষয়ে নয়াদিল্লির তরফে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
মার্কিন সেনার বিশেষ কৌশল ও ‘ট্রান্সপন্ডার’ রহস্য
সূত্রের খবর, পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজে প্রবেশ এবং সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে মার্কিন সেনা। ইরানকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিরাপদে পার করে দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, হরমুজ পার হওয়ার সময় বেশিরভাগ বাণিজ্যতরীই তাদের ‘ট্রান্সপন্ডার’ নামক স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিন সংকেত প্রেরণকারী যন্ত্রটি বন্ধ রাখছে। এর ফলে ইরানি সেনা বা রাডার এই জাহাজগুলির অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য পাচ্ছে না। মার্কিন কর্তাদের মতে, ইরানের নজর এড়িয়ে এই কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ বিষয়টি ইরানি সেনাবাহিনী টের পেলেই জাহাজ লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ শুরু হতে পারে। তবে এই ৭০টি জাহাজ কোন কোন দেশের ছিল, তা আমেরিকার পক্ষ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।
ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তা ও গোপন কূটনীতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত তিন সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ভারতীয় জাহাজও এই পথ অতিক্রম করেছে। ভারত সরকার মার্কিন সাহায্য নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মুখ না খুললেও, সম্প্রতি হরমুজে ভারতীয় জাহাজের অবাধ যাতায়াতের পেছনে একটি ‘গোপন কূটনীতি’র কথা প্রকাশ করেছিল। নৌপরিবহণ বিষয়ক পরিচালক ওপেশকুমার শর্মা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজের সুরক্ষার স্বার্থে কূটনৈতিক স্তরে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও তেলের বাজারের উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলে ভারতের অর্থনীতিতে তার বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারত নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল বাইরে থেকে আমদানি করে, যার প্রায় ৫০ শতাংশ আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল এই পথেই ভারতে পৌঁছায়। এছাড়া ভারতের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই প্রণালীতে সামান্যতম অস্থিরতাও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।