২৭ দিন পরেও হার মানতে নারাজ মমতা, ফের তুললেন রিগিংয়ের অভিযোগ

জনতার রায় মানতে নারাজ মমতা, রিগিং তত্ত্ব তুলে ফের তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো
রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির ২৭ দিন পেরিয়ে গেলেও পরাজয় স্বীকার করতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় বসলেও, সোমবার কালীঘাট থেকে ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, এই জয় জনতার রায় নয়, বরং কারচুপির ফল। নিজের হার তিনি মেনে নিতে রাজি নন এবং শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হারানো হয়েছে।
ভোটের ফলাফল ও রিগিং নিয়ে নতুন বিতর্ক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজ্যের অন্তত ১৭৭টি আসনে বিজেপি রিগিং করে জয় পেয়েছে। নিজের পরাজয় ও দলের বিপর্যয়ের পেছনে তিনি কারচুপির সরাসরি দায় চাপিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের ওপর। তিনি দাবি করেন, গণনার সময় তিনি যখন এগিয়ে ছিলেন, তখন তাঁকে জোর করে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি তাপস চট্টোপাধ্যায়ের আসনটির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে জয়ের পর রিকাউন্টিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল বদলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই অনাস্থা ও অভিযোগের আবহে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা
মমতার এই অনড় অবস্থানের প্রভাব পড়ছে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির ওপর। হকার উচ্ছেদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা এবং দলীয় কর্মীদের হেনস্থার মতো বিষয়গুলোকে সামনে এনে তিনি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল এখন যে কোনো মূল্যে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, জনতার রায়কে সরাসরি অস্বীকার করায় আগামী দিনে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।