পোস্টাল ব্যালটে বিপুল জয়, ফলতায় ভোট লুঠ ও কারচুপির বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/02/10/rm4rXl4xXYNyINuBFNPJ.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক দল ভাঙানো এবং নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনঃনির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ফেসবুক লাইভে এসে তৃণমূলনেত্রী দাবি করেছেন, ফলতার ভোটে ব্যাপক কারচুপির পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও বিধায়কদের দলবদলের জন্য লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূল ভাঙাতে পুলিশ ও বিজেপির যৌথ চাপ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করতে এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁর দাবি, দলের নেতা ও বিধায়কদের ফোন করে দল ছাড়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে পুলিশের একটি অংশকে দিয়ে যোগাযোগ করানো হচ্ছে এবং তার ঠিক পরপরই বিজেপির সদর দফতর থেকে ফোন যাচ্ছে। এই দ্বিমুখী চাপের লক্ষ্য হলো তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ধরানো এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা।
ফলতায় এজেন্ট গ্রেফতার ও পোস্টাল ব্যালটের তথ্য
ফলতার পুনঃনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলনেত্রী সরাসরি ভোট লুঠের অভিযোগ এনেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তিনি জানান, নির্বাচনের দিন তৃণমূলের প্রায় ৫০০ জন এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং দলীয় প্রার্থীকে লাগাতার ভয় দেখানো হয়। ফল প্রকাশের একটি সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ফলতার পোস্টাল ব্যালটের গণনায় মোট ১৮০০ ভোটের মধ্যে ১৭০০ ভোটই পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পোস্টাল ব্যালটে জনমত এতটা স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও মূল ইভিএম গণনায় কারচুপি করে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চাঞ্চল্যকর দাবি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের এই অভিযোগ আগামী দিনে আইনি এবং রাজনৈতিক স্তরে বড় আন্দোলনের রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে, পোস্টাল ব্যালটের এই পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করবে।