তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ২ বিধায়ক, সরব শুভেন্দুও

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দলের ভেতরে ক্রমবর্ধমান এই অরাজকতা ও বিদ্রোহের জেরে এবার দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।
বহিষ্কারের কারণ
তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের জারি করা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপান সাহার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, তাঁরা:
- দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোতে বারবার অনুপস্থিত ছিলেন।
- দলবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন।
- দলের স্বার্থের পরিপন্থী বক্তব্য রাখছিলেন।
সিআইডি তদন্ত ও বিতর্কের কেন্দ্রে স্বাক্ষর জালিয়াতি
এই পরিস্থিতির পেছনে একটি বড় কারণ হলো স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, তৃণমূলের দুর্নীতির কারণেই দলের ভেতর এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, দলের ভেতর বিধায়কদের স্বাক্ষর চুরির একটি ঘটনা ঘটেছে, যার তদন্ত করছে সিআইডি। এই জালিয়াতির অভিযোগেই সিআইডি একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাকে তলব করেছে এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
পাল্টা অভিযোগ ও দলের অস্বস্তি
বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপান সাহা সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যে বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন না, তাঁদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা একটি বড় ভুল ছিল এবং এর দায়ভার দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরই বর্তায়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। এর আগে লোকসভা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পরাজয়ের পর দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এখন তৃণমূলের নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।