মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক, তাঁদের বিধায়ক পদ কি বিপন্ন? কী বলছে সংবিধান?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক, তাঁদের বিধায়ক পদ কি বিপন্ন? কী বলছে সংবিধান?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপান সাহাকে বহিষ্কারের ঘটনার পর একটি বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে—দলের সদস্যপদ হারানোর ফলে কি তাঁদের বিধায়ক পদও চলে যাবে? ভারতীয় সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, এর উত্তর এবং প্রাসঙ্গিক নিয়মগুলি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. দল থেকে বহিষ্কার বনাম বিধায়ক পদ:

ভারতীয় সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল যদি শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে কোনো বিধায়ককে বহিষ্কার (Expel) করে, তবে সেই বিধায়ক তাৎক্ষণিকভাবে বিধানসভার সদস্যপদ হারান না। বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও তিনি বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নিতে পারেন এবং একজন ‘নির্দল’ বা ‘অসংলগ্ন’ সদস্য হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ, বহিষ্কার মানেই বিধায়ক পদের অবসান নয়।

২. দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law):

সংবিধানের দশম তফসিলে থাকা ‘দলত্যাগ বিরোধী আইন’ মূলত তখনই কার্যকর হয় যখন একজন বিধায়ক:

  • স্বেচ্ছায় নিজের রাজনৈতিক দল থেকে ইস্তফা দেন।
  • সদনে দলের নির্দেশ বা ‘হুইপ’ (Whip)-এর বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দেন।
  • দলের অনুমতি ছাড়া ভোটাভুটির সময় অনুপস্থিত থাকেন।

যেহেতু এই দুই বিধায়ককে দল নিজেই বহিষ্কার করেছে, তাঁরা নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করেননি, তাই এই পর্যায়ে তাঁদের ওপর সরাসরি দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগের সুযোগ সীমিত।

৩. ‘হুইপ’ সংক্রান্ত ঝুঁকি:

দলের সদস্যপদ হারালেও, বিধানসভার কার্যক্রমের সময় ওই দুই বিধায়ককে এখনও সচেতন থাকতে হবে। কারণ, বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও যদি তাঁরা বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির সময় তাঁদের মূল দলের অফিসিয়াল ‘হুইপ’ অমান্য করেন বা দলের নির্দেশনার বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দেন, তবে সেক্ষেত্রে দল আইন অনুযায়ী তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ করার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানাতে পারে। তখন দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

সংক্ষেপে:

বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র দল থেকে বের করে দেওয়ার কারণে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপান সাহার বিধায়ক পদ চলে যাচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে বিধানসভার অধিবেশনে দলের নির্দেশ অমান্য করলে বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলে তাঁদের বিধায়ক পদ আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *