অভিষেক-কল্যাণকে খুনের চেষ্টার নেপথ্যে বিজেপি ও পুলিশ, দল ভাঙার চক্রান্ত রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি মমতার

অভিষেক-কল্যাণকে খুনের চেষ্টার নেপথ্যে বিজেপি ও পুলিশ, দল ভাঙার চক্রান্ত রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি মমতার

তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করতে বিজেপি এবং পুলিশ যৌথভাবে ভীতিপ্রদর্শন, বেআইনি গ্রেফতারি এবং ভোটে কারচুপির আশ্রয় নিচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এক ভার্চুয়াল বক্তৃতায় দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টাকা এবং পেশিশক্তি ব্যবহার করে তৃণমূলকে কোনোভাবেই ভাঙা সম্ভব নয়। তৃণমূলের বিধায়ক এবং হেভিওয়েট নেতাদের ওপর বিজেপি ও পুলিশ ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করে তিনি অতীতে তাঁর সাহায্য পাওয়া বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতার ভূমিকারও কড়া সমালোচনা করেন।

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মমতা। এই হামলায় গুরুতর জেরে জখম হয়ে বর্তমানে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তৃণমূলের ‘নাম্বার টু’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাইপোর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, পুলিশ প্রকৃত দোষী বিজেপি কর্মীদের আড়াল করছে। সঠিক চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি একে তৃণমূলকে ধ্বংস করার এবং শীর্ষ নেতাদের ‘খুনের চেষ্টা’র এক গভীর চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক হিংসা ও ভোট লুটের অভিযোগ

দলীয় কর্মকাণ্ডে রাজ্যজুড়ে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজ্যের প্রায় ২,৫০০টি দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কর্মীদের মিথ্যা অস্ত্র ও মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সমাপ্ত বিধানসভা ভোট ও ভোট পরবর্তী গণনা প্রক্রিয়াকে ‘লুট’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, অন্তত ১৭৭টি আসনে কারচুপি করা হয়েছে। রাজারহাটের তাপস চট্টোপাধ্যায় জয়ের পরও পুনর্গণনায় হেরে যান এবং ভবানীপুরে তিনি নিজে ১৩,০০০ ভোটে এগিয়ে থাকার সময় তাঁকে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি, ফলতা বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূলের ৫০০ জন এজেন্টকে গ্রেফতার এবং প্রার্থীকে হুমকি দিয়ে ভোট লুট করা হয়েছে বলেও তিনি সরব হন।

আইনশৃঙ্খলা সংকট ও রাজনৈতিক প্রভাব

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, দু-একজন সাংসদ বা বিধায়ককে টাকার টোপ দিয়ে দলত্যাগ করালেই তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না, বরং দল আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমান প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজ্যে এক “আইনহীন সরকার” চলছে এবং গোটা রাজ্যকে “লুঠেরাদের” হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক পরিবেশ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। মমতার এই বিস্ফোরক অভিযোগের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে তৃণমূলের এই সমস্ত অভিযোগকে ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, নির্বাচনী পরাজয় এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই তৃণমূল নেত্রী এই ধরণের অবাস্তব অভিযোগ তুলছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *