শূকরের শরীরে জন্ম নেবে মানুষের হৃৎপিণ্ড, আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে অমরত্বের খোঁজে পুতিন!

শূকরের শরীরে জন্ম নেবে মানুষের হৃৎপিণ্ড, আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে অমরত্বের খোঁজে পুতিন!

বিজ্ঞানের শক্তিকে হাতিয়ার করে এবার বার্ধক্য ও মৃত্যুকে জয় করার এক অবিশ্বাস্য অভিযানে নেমেছে রাশিয়া। মানুষের শরীরে বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিয়ে কার্যত অমরত্ব লাভের উদ্দেশ্যে ২.৪৭ লক্ষ কোটি টাকার এক বিশাল বিজ্ঞান গবেষণা প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ‘নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজি’ নামের এই যুগান্তকারী প্রকল্পে বিশেষ প্রজাতির শূকরের শরীরে মানুষের যকৃৎ, কিডনি এবং হৃৎপিণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ উৎপাদনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন রুশ বিজ্ঞানীরা।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো জিন থেরাপি, বায়োপ্রিন্টিং এবং অত্যন্ত কম তাপমাত্রার ক্রায়োথেরাপির মাধ্যমে মানুষের জীবনকালকে অভাবনীয়ভাবে বাড়িয়ে দেওয়া। রুশ সরকারের দাবি, এই প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই দশকের শেষ নাগাদ অন্তত ১.৭৫ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

শূকরের শরীরে মানব অঙ্গ ও থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং

এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বায়োপ্রিন্টিং প্রযুক্তি, যেখানে থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে জীবন্ত কোষ ও কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি করা হয়। রুশ বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে মানুষের তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) এবং ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি করার দাবি করেছেন। তবে তাদের সবচেয়ে বড় চমক হলো জিনগতভাবে পরিবর্তিত ছোট আকারের শূকরের (মিনি পিগস) শরীরে মানব অঙ্গের উৎপাদন। বিজ্ঞানীদের আশা, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ল্যাবরেটরিতে তৈরি অঙ্গগুলো মানব শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে, যা বিশ্বজুড়ে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘাটতি চিরতরে দূর করতে পারে। এর পাশাপাশি রুশ বিজ্ঞানীরা এমন এক জিন থেরাপির বিকাশ ঘটিয়েছেন, যা মানবদেহের কোষের বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ধীর করে দেবে।

পুতিনের নিজস্ব দীর্ঘায়ু মিশন ও ক্রায়োথেরাপির রহস্য

নিজে চিরতরুণ থাকতে এবং আয়ু বাড়াতে প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করছেন বলে আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত ‘পেপটাইড থেরাপি’ নিচ্ছেন, যেখানে বাছুরের টিস্যু থেকে তৈরি বিশেষ উপাদান তার শরীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় একজন মানুষ ১২০ বছর পর্যন্ত সুস্থভাবে বাঁচতে পারেন।

এর পাশাপাশি পুতিন নিচ্ছেন ‘ক্রায়োথেরাপি’, যার মাধ্যমে মানব শরীরকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাইনাস ১১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই তীব্র ঠান্ডা কোষকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। এই পুরো প্রকল্পটির নেপথ্যে সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুতিনের চিকিৎসক কন্যা মারিয়া ভোরোন্তসোভা এবং তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বিজ্ঞানী মিখাইল কোভালচুক। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অভূতপূর্ব পরীক্ষা সফল হলে তা চিকিৎসা জগতের পুরো ইতিহাস বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *