ইডির ম্যারাথন জেরা শেষে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে কি বললেন রথীন ঘোষ?

সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে অবশেষে বেরলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। জেরা শেষে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বাইরে বেরিয়ে মধ্যমগ্রামের বিধায়ক জানান, তাঁর কাছে আইটি সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল এবং তিনি তা জমা দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তাঁকে পরে আবারও ডাকতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জেরার পটভূমি ও দীর্ঘ টানাপোড়েন
পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এর আগেও একাধিকবার রথীন ঘোষকে তলব করেছিল ইডি। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মধ্যমগ্রাম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর সুপারিশে অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগ হয়েছিল বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মূল অভিযোগ। এই মামলার তদন্তে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের মুখে রথীন ঘোষকে মোট ৫ বার ডেকে পাঠানো হলেও নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। ভোটের ফলপ্রকাশে জয়ী হওয়ার পর পুনরায় শমন পাঠানো হলেও এতদিন শারীরিক অসুস্থতার চিঠি পাঠিয়ে হাজিরা এড়াচ্ছিলেন এই তৃণমূল নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত সোমবার তিনি ইডি দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হন।
রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা
রেশন দুর্নীতি মামলায় তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর রথীন ঘোষের কাঁধেই খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেপ্তারি এবং বর্তমানে তাঁর জেল হেফাজতের ঘটনাপ্রবাহে রথীন ঘোষের এই ম্যারাথন জেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তদন্তকারীদের এই তৎপরতা আগামী দিনে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার জাল কতদূর বিস্তৃত করে এবং রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর কী ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।