সো-কলড জিতেও স্বস্তি পাচ্ছেন না! বিজেপিকে তীব্র আক্রমণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,628&ssl=1)
দল ভাঙাতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও নেতাদের ওপর লাগাতার প্রশাসনিক চাপ ও ভয় দেখানো হচ্ছে বলে এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার একটি ফেসবুক লাইভে এসে তিনি দাবি করেন, প্রথমে পুলিশের মাধ্যমে যোগাযোগ করিয়ে, তার পরেই বিজেপির দফতর থেকে ফোন পাঠানো হচ্ছে। ভয়, প্রলোভন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জুজু দেখিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধীদের দল ছাড়তে বাধ্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি সরাসরি তোপ দাগেন।
ভয় ও প্রলোভনের রাজনীতি
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, দলের একাধিক বিধায়ক ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন। কাউকে আর্থিক প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে, আবার কাউকে গ্রেফতারি, পরিবারের সদস্যদের হয়রানি কিংবা সন্তানদের বিপদে ফেলার ভয় দেখানো হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা এবং নেতা-কর্মীদের হেনস্থাকে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের একটি পরিকল্পিত নীলনকশা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে দলের এই সংকটের সময়েও কিছু নেতার দলবদলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে তাঁর মন্তব্য, “কিছু বেনোজল বেরিয়ে গিয়েছে, এতে দলেরই মঙ্গল হয়েছে।”
ভোটের ফল নিয়ে প্রশ্ন ও রাজনৈতিক সৌজন্যের খতিয়ান
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, গণনা কেন্দ্রে কারচুপি করে তাঁকে সরানো হয়েছে। ১৭৭টি আসনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় রিগিং হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপির বর্তমান আগ্রাসী নীতির সমালোচনা করে তিনি মনে করিয়ে দেন, “আমাদের সময়ে বিজেপিকে দুধে-ভাতে রাখা হয়েছিল।” রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বর্তমান শাসকদলের এই অনমনীয় মনোভাবকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে তাঁর প্রশ্ন, “সো-কলড জিতেও স্বস্তি পাচ্ছেন না, তাহলে কি ভয় পাচ্ছেন?”
প্রভাব ও রাজনৈতিক সংঘাতের ভবিষ্যৎ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দল ভাঙানোর এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং নির্বাচনোত্তর হিংসা ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার দাবি আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করবে। একদিকে দল ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নির্বাচনী গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার এই রণকৌশল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে এক দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।