রাজনীতিও পোশাকের মতোই স্পষ্ট সাদা-কালো, স্যুটের বিতর্ক উড়িয়ে ডিএমকে-কে কড়া বার্তা বিজয়ের

রাজনীতিও পোশাকের মতোই স্পষ্ট সাদা-কালো, স্যুটের বিতর্ক উড়িয়ে ডিএমকে-কে কড়া বার্তা বিজয়ের

তামিলনাড়ুর মসনদে বসার পর নিজের প্রথম বিশাল জনসভা থেকেই বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ শানালেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা ‘তামিলগা ভেট্রি কড়গম’ (টিভিকে) প্রধান সি জোসেফ বিজয়। তিরুচিরাপল্লীতে আয়োজিত এক ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভায় নিজের পোশাক নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেমন উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি, তেমনই রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি ডিএমকে-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়ের এই বার্তা দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পোশাক বিতর্কের রাজনৈতিক জবাব ও দ্রাবিড় দর্শন

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই বিজয়ের স্যুট পরা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও কটাক্ষ শুরু হয়েছিল। তিরুচিরাপল্লীর সেন্ট জোসেফস কলেজ মাঠে জড়ো হওয়া লক্ষাধিক সমর্থকের সামনে এর কড়া জবাব দিয়ে বিজয় জানান, তাঁর পোশাক কোনো বিলাসের অঙ্গ নয়, বরং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি কেবল সাদা এবং কালো রঙের স্যুট পরেন, যা তাঁর স্বচ্ছ ও স্পষ্ট রাজনীতিকে প্রকাশ করে। একই সঙ্গে এই কালো রঙকে পেরিয়ারের দ্রাবিড় আন্দোলন ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শের অবস্থান পুনর্নিশ্চিত করেন।

ডিএমকে-কে আক্রমণ ও তামিল রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ

নির্বাচনী অভিষেকেই অভাবনীয় জয় পেয়ে সরকার গঠনের পর বিজয় বিরোধী দল ডিএমকে-র পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে দীর্ঘ সময় ধরে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে, যার কারণে বিগত নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করে নতুন ও স্বচ্ছ পথ বেছে নিয়েছে। নিজেকে রাজ্যের ‘প্রথম প্রধান সেবক’ হিসেবে দাবি করে বিজয় বলেন, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন এআইএডিএমকে-র মতো দলগুলোর আর কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। লড়াইটা এখন সরাসরি ডিএমকে এবং টিভিকে-র মধ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং জাতিভেদ, ধর্মের রাজনীতি বা ভোট কেনার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার ভূমিকা তামিলনাড়ুর চিরাচরিত দ্বি-পাক্ষিক রাজনৈতিক কাঠামোকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। কিংবদন্তি নেতা এম জি রামচন্দ্রনের (এমজিআর) জনপ্রিয়তার সঙ্গে বিজয়ের এই উত্থানের তুলনা করা হচ্ছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *