আবেদন করলেই মিলবে না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা, দুর্নীতি রুখতে কড়া ভেরিফিকেশনের বড় আপডেট

রাজ্যে ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া। পূর্ববর্তী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিবর্তে নতুন এই প্রকল্পে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। তবে আবেদন করলেই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা মিলবে না। ৩ জুন থেকে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু করার আগে দুর্নীতি রুখতে এক অত্যন্ত কঠোর ভেরিফিকেশন বা তথ্য যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালু করেছে রাজ্য প্রশাসন।
কঠোর যাচাইকরণ ও প্রশাসনিক নজরদারি
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের প্রায় ১১ পাতার একটি দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে, যেখানে যাবতীয় প্রয়োজনীয় ও জরুরি তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফর্ম পূরণের পর প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তথ্য সম্পূর্ণ সঠিক থাকলে তবেই আবেদনকারীরা এই আর্থিক সহায়তা পাবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে এবং নাম নথিভুক্তকরণ তদারকি করতে রাজ্যের ২২টি জেলার জন্য ২২ জন সচিব এবং প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ আধিকারিক নিয়োগ করেছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল। এর পাশাপাশি আশা কর্মী, বিএলও এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সঠিকভাবে ফর্ম বিলি করছেন কি না, তাও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্নীতিমুক্ত প্রকল্প গড়ার লক্ষ্য
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই কড়া ভেরিফিকেশনের মূল কারণ হলো পূর্ববর্তী প্রকল্পের খামতি ও অনিয়ম দূর করা। অতীতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী থেকে শুরু করে বহু অযোগ্য ব্যক্তি অনৈতিকভাবে এই ধরনের ভাতার সুবিধা ভোগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে সেই ধরনের দুর্নীতির রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে প্রতি সপ্তাহে প্রশাসনের তরফে ভেরিফিকেশনের অগ্রগতি নিয়ে ব্রিফিং করা হবে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লক্ষ আবেদনপত্রের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এই কঠোর যাচাইকরণের ফলে প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য মহিলারাই সরাসরি সরকারি অনুদান পাবেন এবং ভুয়ো আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া সম্ভব হবে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বড় প্রভাব ফেলবে।