৬ জুন দেশে ফিরছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা

৬ জুন দেশে ফিরছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা

নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশজুড়ে চরম বিতর্ক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন দেশের বর্তমান জনপ্রিয় ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বোস্টন প্রবাসী এই স্ট্র্যাটেজিস্ট আগামী ৬ জুন দেশে ফিরছেন। ভারতে পা রেখেই তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হবেন বলে জানিয়েছেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আন্দোলনের পটভূমি ও ককরোচ জনতা পার্টি

পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্যকান্তের মুখে ‘ককরোচ’ শব্দটি শোনা যায়, যা পরবর্তীতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। প্রধান বিচারপতি পরে স্পষ্ট করেন যে, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এই মন্তব্য করেননি। তবে ততক্ষণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়ে যায়। এই সুযোগে অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ’ শব্দটিকে যুব আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন, যা দ্রুত বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। বর্তমানে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহsupported মোড় নিয়েছে; এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলোও কেন্দ্রের সমালোচনা করে এই যুব আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ও সম্ভাব্য প্রভাব

অভিজিৎ দীপকের দাবি, নিট ও সিবিএসই-সহ একাধিক বড় পরীক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার কারণে দেশের প্রায় এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনলাইনে ইতিমধ্যে ৮ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করেছে এবং লখনউ, জয়পুর ও মহারাষ্ট্রসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এত বড় অনিয়মের পরও যদি শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করেন, তবে দেশের গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।

৬ জুন দিল্লিতে পৌঁছেই যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য পুলিশের অনুমতি চাইবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীপকের এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তন এবং যন্তর মন্তরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে আরও বেশি জাতীয় স্তরে উসকে দিতে পারে। এতে করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। গ্রেফতারের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দীপকে জানিয়েছেন, ভারতীয় সংবিধানের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে যেকোনো শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে তিনি পিছপা হবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *