প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল মঞ্চ কলকাতা, আজ নবান্নে হাইভোল্টেজ বৈঠক

এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে তিলোত্তমা। আগামী ২১শে জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হতে চলেছে কলকাতায়, যেখানে মূল আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশ ও বিদেশের নজর কাড়তে চলা এই হাইভোল্টেজ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতায় পা রেখেছেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ সচিব রাজেশ কোটেচা। আজ, মঙ্গলবার রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শহরে আসছেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব।
পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রস্তুতি
মঙ্গলবার সকালেই আয়ুষ মন্ত্রক ও মোরারজি দেশাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ যোগা-র একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল কলকাতায় এসে পৌঁছেছে। রাজ্যের আয়ুর্বেদ অধিকর্তা ডা. দেবাশিস ঘোষের তত্ত্বাবধানে ওই প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই রেড রোড, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম সহ সম্ভাব্য একাধিক অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন আয়ুষ মন্ত্রকের অন্যতম অধিকর্তা অমরেন্দ্র সিং ও মোরারজি দেশাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ যোগা-র অধিকর্তা ড. কাশীনাথ সমাগান্ধী সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। প্রধানমন্ত্রী সহ বহু ভিভিআইপি ব্যক্তিত্বের উপস্থিতির কারণে কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকেও দফায় দফায় নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
মূল ভাবনা এবং রাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব
এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘যোগা ফর হেলদি এজিং’। প্রবীণ নাগরিকদের সুস্থ রাখার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের মতে, ভারতে বর্তমানে সিনিয়র সিটিজেন-কেন্দ্রিক অর্থনীতির পরিমাণ প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা, যা আগামীতে আরও বৃদ্ধি পাবে। এই বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের সুস্থতায় যোগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালের তুলনায় যোগ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একে আধুনিক বিজ্ঞানের আলোয় জনপ্রিয় করে তুলছে।
কলকাতাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের আয়ুষ মানচিত্রে এক বড় বদল আনতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যে যোগ চর্চাকেন্দ্রিক নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার পথ সুগম হতে পারে, যা আগামী দিনে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় বড় আকারে যোগ দিবস পালনের যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের এই তৎপরতা তাতে চূড়ান্ত সিলমোহর দিল।