দেশে মারাত্মক তাপপ্রবাহে মৃত্যু মিছিলের আশঙ্কা

বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে জলবায়ুর চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চল। ১৪টি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক যৌথ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। গবেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, দেশে মারাত্মক তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়তে পারে। আগামীতে একটি মাত্র ভয়াবহ তাপপ্রবাহের দিনে অতিরিক্ত ৩৪০০ জনের মৃত্যু এবং টানা পাঁচ দিনের তাপদাহে এই সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেড়ে চলেছে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি
২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অন্তত ১০টি প্রধান শহরে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি ৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে তাপদাহজনিত কারণে মৃত্যুর হার বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকারি খতিয়ানে যে পরিমাণ প্রাণহানির তথ্য নথিভুক্ত থাকে, গবেষকদের সংগৃহীত বাস্তব পরিসংখ্যান তার চেয়ে বহুগুণ বেশি। এই বিশাল ব্যবধান সরকারি নথিপত্র এবং মাঠপর্যায়ের দুর্যোগ পরিস্থিতির মধ্যে একটি বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সংকটের কারণ ও আসন্ন প্রভাব
মূলত কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন চরম আকার ধারণ করেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে ঋতুচক্রের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ও প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ এখন নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বেন। পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ না থাকলে ভবিষ্যতে এই তাপপ্রবাহকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য খাতে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।