মহারাষ্ট্রের ছায়া কি এবার তৃণমূলে, বিধায়ক ভাঙনের জল্পনায় কাঁপছে বঙ্গ রাজনীতি

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহল থেকে উঠে আসা নতুন গুঞ্জনে রীতিমতো তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও এনসিপি ভাঙনের ধাঁচেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বড়সড় সংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। শোনা যাচ্ছে, শাসকদলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াইকে কঠিন করে তুলেছে।
নতুন দল গঠনের ছক ও প্রতীকের সংকট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের এই সম্ভাব্য ভাঙন কেবল দলের সংখ্যাতত্ত্বই বদলে দেবে না, বরং দলের নাম ও প্রতীক ‘ঘাসফুল’ হাতছাড়া হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে। মহারাষ্ট্রে যেভাবে উদ্ধব ঠাকরে ও শরদ পওয়ার নিজেদের দলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, ঠিক সেই মডেলই পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োগের চেষ্টা চলছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদি বড় সংখ্যক বিধায়ক দলবদল করেন, তবে বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস তার বর্তমান বিরোধী দলের মর্যাদাও হারাতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ ও প্রভাব
এই ঘটনার নেপথ্যে দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবং নতুন নেতৃত্ব গড়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিধায়কদের এই দলত্যাগ যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে দিতে পারে। তৃণমূলের হাত থেকে প্রতীকের দখল চলে যাওয়া মানে একদিকে যেমন আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়া, অন্যদিকে জনমানসে দলের বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো। এই পরিস্থিতির চূড়ান্ত প্রভাব হিসেবে রাজ্যের শাসনক্ষমতায় বড় ধরনের রদবদল কিংবা রাজনৈতিক সমীকরণের আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।