৩ জুন থেকে শুরু হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া, টার্গেট পূরণে মরিয়া প্রশাসন

রাজ্য সরকারের উচ্চাকাক্সক্ষী ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র প্রথম কিস্তির টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। আগামী বুধবার, ৩ জুন এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে। উদ্বোধনের দিনই রাজ্যের প্রতিটি ব্লক ও পুরসভা এলাকা থেকে বাছাই করা ১০০ জন করে উপভোক্তার হাতে প্রতীকী অনুমোদনপত্র তুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যাবে প্রথম কিস্তির ৩,০০০ টাকা। প্রথম পর্যায়ে রাজ্যজুড়ে ৯০ হাজারেরও বেশি মহিলা উপভোক্তাকে এই আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার।
লক্ষ্যপূরণে প্রশাসনিক তৎপরতা ও জটিলতা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, নির্ধারিত দিন থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো শুরু হবে। এই বৃহৎ প্রক্রিয়া সফল করতে কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরোর প্রতিটিতে একজন করে এক্সিকিউটিভ অফিসার, চিফ ইঞ্জিনিয়রসহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্তাদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা ধরে ধরে সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহ করছেন। বস্তি ও নিম্নআয়ের আবাসিক এলাকাগুলিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশাসনের একাংশের মতে, আগামী বুধবারের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। ১২ পাতার দীর্ঘ আবেদনপত্র এবং বিপুল ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার কারণে অনেক উপভোক্তা ফর্ম পূরণে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কিছু এলাকায় তথ্য অপব্যবহারের আশঙ্কায় আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কেবল ভুয়ো আবেদনকারী বাদ দিয়ে প্রকৃত দরিদ্রদের চিহ্নিত করতেই এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও জেলাভিত্তিক শিবির
প্রথম কিস্তির অর্থ বিতরণের পর এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়াতে চায় রাজ্য সরকার। ফর্ম পূরণের জটিলতা কাটাতে সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের সাহায্য করবেন বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ৩ জুনের প্রাথমিক উদ্বোধনের পর রাজ্যের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ব্লক ও পুরসভা এলাকায় বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হবে। এই শিবিরের মাধ্যমে বাদ পড়া যোগ্য মহিলাদের দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা সম্ভব হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারের মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটবে এবং গ্রামীণ ও নগর অর্থনীতিতে নগদ টাকার জোগান বাড়বে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই বিশাল আর্থিক দায়ভার সামলানো এবং প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন সরকারের প্রধান পরীক্ষা।