ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ ঋদ্ধির, পাল্টা জবাবে সুর চড়ালেন গায়ক

ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ ঋদ্ধির, পাল্টা জবাবে সুর চড়ালেন গায়ক

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গীত জগতে এবার বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। তৃণমূল জমানায় সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য শিল্পীদের কাছ থেকে “কাটমানি” চাওয়া হতো বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগের তির মূলত তৃণমূল ঘনিষ্ঠ গায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের দিকে। এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

আজ সল্টলেকে বিজেপির পার্টি অফিসে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ উপস্থিত হয়ে ঋদ্ধি এই বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ লবির লোক না হওয়ার কারণে যোগ্য শিল্পীদের ব্রাত্য করে রাখা হতো এবং নির্দিষ্ট কিছু মানুষই সব সরকারি অনুষ্ঠানে সুযোগ পেতেন। যদি কখনও সুযোগ আসত, তখন কাটমানি দাবি করা হতো। প্রতিবাদ করায় তাঁকে হুমকি ফোনও পেতে হয়েছে বলে জানান ঋদ্ধি।

ইন্দ্রনীলের পাল্টা জবাব ও রূপার ক্ষোভ

এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইন্দ্রনীল সেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়ে তিনি জানান, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরণের মিথ্যাচার করা হচ্ছে। টাকা নেওয়া তো দূরঅস্ত, তিনি কারও থেকে একটা মিষ্টিও খাননি। হুমকি ফোনের অভিযোগ নস্যাৎ করে তিনি দাবি করেন, গত আট-নয় বছর ধরে ঋদ্ধির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ বা ফোন নম্বর পর্যন্ত নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন যে কোনও শাস্তি দিলে তিনি তা মাথা পেতে নেবেন।

এদিকে জনতার দরবারে ঋদ্ধিকে দেখে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ইন্দ্রনীল সেনকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, চন্দননগরে জঙ্গলরাজ চালানো হয়েছে এবং বারবার সরব হয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি। ঋদ্ধির মতো শিল্পীকে আজ সুবিচারের জন্য জনতার দরবারে আসতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রীর এই জনতার দরবারে সঙ্গীতজগতের এমন কেলেঙ্কারি সামনে আসায় আগামী দিনে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর ফলে বিগত সরকারের আমলে সংস্কৃতি ক্ষেত্রের বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টন এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি বড়সড় তদন্তের আওতায় আসতে পারে। পাশাপাশি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *