দলের অন্দরেই ফাটলের গুঞ্জন, এর মাঝেই আজ রাজপথে আন্দোলনের হুঙ্কারে মমতা

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে চরম অস্বস্তি। একের পর এক বিধায়কের দলবিরোধী সুর এবং ঘর ভাঙার আশঙ্কার মাঝেই আজ, মঙ্গলবার ফের রাজপথে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা এবং হকার উচ্ছেদ-সহ একাধিক জ্বলন্ত ইস্যুকে সামনে রেখে এদিন তাঁর ধরনা কর্মসূচির কথা রয়েছে। তবে আন্দোলনের শুরুতেই বাধ সেধেছে প্রশাসন। রানি রাসমণি রোডে ধরনার অনুমতি না মেলায় এবং পুলিশের তরফে ওয়াই চ্যানেলে মাত্র দু’ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় ধরনাস্থল নিয়ে তীব্র জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ভেতর-বাইরের দ্বিমুখী চাপ
দলীয় কোন্দল ও বিধায়কদের একাংশের দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি এখন তৃণমূলের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি কালীঘাটে দলের বিধায়কদের নিয়ে ডাকা জরুরি বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। যদিও নেতৃত্বের দাবি, বাকিরা এলাকায় ‘বিজেপির সন্ত্রাস’ মোকাবিলা করছেন, কিন্তু রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়েই সিংহভাগ বিধায়ক বৈঠক এড়িয়ে গেছেন। এই অভ্যন্তরীণ সংকট ও মুখরক্ষার তাগিদেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তড়িঘড়ি এই দু’দিনের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যার চূড়ান্ত রূপ দেখা যেতে চলেছে আজ।
পুলিশি বাধা বনাম একলা চলার জেদ
প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, পুলিশ যেখানেই আটকাবে, সেখানেই বসে ধরনা শুরু করবেন এবং সেটিই হবে চূড়ান্ত ধরনাস্থল। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর আহ্বান, “গ্রেপ্তার করার হলে করুন, মারলে মার খাব।” এমনকি বাংলায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে না দিলে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে একদিকে যেমন দলের কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা চলছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভেতরের ফাটল থেকে সংবাদমাধ্যমের নজর ঘুরিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখাই তৃণমূল সুপ্রিমোর মূল লক্ষ্য।