বিজেপির লুম্পেনদের হুমকি ভয় পাবে না তৃণমূল, আমি লড়াই চালিয়ে যাব: মমতা

রাজ্যজুড়ে ভোট পরবর্তী অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সোমবার কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচিতে বসলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রানি রাসমণি রোডে সভার অনুমতি না মেলায় তৃণমূল সুপ্রিমো কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়েই ওয়াই চ্যানেলের মঞ্চ থেকে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। এদিন মঞ্চে জনসমাগম তুলনামূলক কম হলেও দলের বর্ষীয়ান নেতাদের পাশে নিয়ে তিনি বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়ান।
ব্যক্তিগত আক্রমণ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপির একাংশ নেতা ও কর্মীরা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন এবং তাঁর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে অশালীন মন্তব্য করছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা ক্ষমতা হারানোর পর তাঁদের ওপর কখনোই এমন আক্রমণ বা কটূক্তি করা হয়নি। বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, লুম্পেনদের হুমকি দিয়ে তাঁকে স্তব্ধ করা যাবে না। তিনি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত তাঁর লড়াই থামবে না।
সন্ত্রাস ও গণতন্ত্র হরণের অভিযোগ
ধর্না মঞ্চ থেকে মমতা দাবি করেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের প্রায় ১০ হাজার তৃণমূল কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন এবং বহু দলীয় কার্যালয় দখল ও ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির নীরবতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। মমতার অভিযোগ, আগে ছোটখাটো ঘটনায় কেন্দ্রীয় কমিশন বা তদন্তকারী সংস্থাগুলো তৎপর হলেও বর্তমানে বিজেপির অত্যাচারে গোটা রাজ্য কার্যত জেলখানায় পরিণত হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, দলের বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং বলপূর্বক তৃণমূল ছাড়ার চাপ দেওয়া হচ্ছে। যারা দল ছেড়ে গেছেন, তাঁদের ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিশ্বাসঘাতকদের মদদ দিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তবে তিনি এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবেন না। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে নিজের আন্দোলনের পথ তিনি নিজেই তৈরি করে নেবেন বলেও এদিন ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।