ভেঙে যাচ্ছে মমতার দল, ৫০ বিধায়কের সই করা চিঠি নিয়ে বিধানসভায় ঋতব্রত!

রাজ্য রাজনীতিতে গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র জল্পনা কি তবে এবার বাস্তবের রূপ নিতে চলেছে? তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঙ্গলবারের কার্যকলাপে সেই আশঙ্কাই এখন প্রবল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে স্পিকার আচমকা দিল্লি সফরে গেলেও, তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিধানসভার সচিবের কাছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে পৌঁছে গিয়েছেন ঋতব্রত। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই নথির হাত ধরেই এবার বাংলায় শাসকদল ভাঙার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে।
একনাথ শিণ্ডে মডেলের ছায়া বাংলায়
শোনা যাচ্ছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকা ওই নথিতে রয়েছে তৃণমূলের প্রায় ৫০ জন বিধায়কের সই সম্মিলিত একটি চিঠি। এই চিঠির মাধ্যমে তাঁরা দাবি করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের আসল মালিক আসলে তাঁরাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। মহারাষ্ট্রে যেভাবে উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে একনাথ শিণ্ডে শিবসেনার নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছিলেন, ঠিক সেই মডেলেই এবার মমতার হাত থেকে তৃণমূল কেড়ে নেওয়ার ছক সাজানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার হতে চলেছে এবং মহারাষ্ট্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলায়।
নেতৃত্বের সংকট ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূলের অন্দরে এই আড়াআড়ি ভাঙনের ইঙ্গিত অবশ্য আগেই পাওয়া গিয়েছিল। দু’দিন আগে দলনেত্রীর বাসভবনে আয়োজিত বিধায়কদের বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন উপস্থিত ছিলেন, যার জেরে বৈঠকটি বাতিল করতে হয়। অনুপস্থিত ওই ৬০ জন বিধায়কের অধিকাংশই এখন ঋতব্রতর নেতৃত্বে মমতা ও অভিষেকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনার ফলে রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল ক্ষমতা বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দলনেত্রীর একক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী যদি সত্যিই দলের প্রতীক ও নাম নিজেদের দখলে নিতে পারে, তবে তা তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বের সংকট তৈরি করবে এবং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দেবে।