মণিপুরে পণবন্দি ২০ নাগরিকের মুক্তির দাবিতে সরব নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী, বাড়ছে উদ্বেগ

মণিপুরে পণবন্দি ২০ নাগরিকের মুক্তির দাবিতে সরব নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী, বাড়ছে উদ্বেগ

অশান্ত মণিপুরের পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এবার মণিপুরের উখরুল জেলার লিতান থানার ইম্ফল-উখরুল সড়কে আটকে পড়া ২০ জন নাগরিককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার যৌথ আবেদন জানিয়েছেন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। পণবন্দিদের মধ্যে ১৪ জন কুকি এবং ৬ জন নাগা সম্প্রদায়ের নাগরিক রয়েছেন। দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই এই বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

রক্তাক্ত অতীত ও ধর্মীয় নেতাদের ওপর হামলা

এই ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ মে সকালে। সেদিন সকাল ১০টা নাগাদ জঙ্গিরা দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। এই নৃশংস হামলায় নিহত হন ব্যাপটিস্ট কনভেনশনের (এমবিসি) প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড ডঃ ভি সিতলহৌ, রেভারেন্ড কাইগোলুন, যাজক পাওগোলেন এবং গাড়ির চালক লেলেন। শান্তি ও আধ্যাত্মিক সেবায় নিয়োজিত এই ধর্মীয় নেতাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার পরই ২০ জনকে পণবন্দি করা হয়। ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম অফ নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে উত্তর-পূর্ব ভারতের ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর বড় আঘাত বলে অভিহিত করেছে।

জাতিগত সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মণিপুরে দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত হিংসার মাঝে এই পণবন্দি করার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। পণবন্দিদের মধ্যে নাগা ও কুকি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ থাকায় ক্ষোভের আগুন মণিপুর ছাড়িয়ে প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে যে, বিষয়টি এখন আর কেবল একটি রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম অফ নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই ভারত সরকার এবং মণিপুর রাজ্য সরকারের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে জাতিগত মেরুকরণ তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *