রক্তাক্ত ইউক্রেনে রাশিয়ার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৩

চলতি বছরের দ্বিতীয় বৃহত্তম হামলার সাক্ষী হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে না হতেই ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে ভয়াবহ তাণ্ডব শুরু করেছে রুশ বাহিনী। সোমবার রাতভর রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের একাধিক বড় শহরে একযোগে কয়েকশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। আকস্মিক ও তীব্র এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
হামলার তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
ইউক্রেনের সামরিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, সোমবার রাতে রুশ বাহিনী অন্তত ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬৫৬টি ড্রোন নিয়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন প্রান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাজধানী কিয়েভ ছাড়াও মধ্য ইউক্রেনের নিপ্রো, পূর্বের পোলতাভা, জাপোরিজিয়া এবং খারকিভের মতো জনবহুল শহরগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেনের বহু ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় এখনো আগুন জ্বলছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধারকাজ চলছে। আহত ১১৭ জনের মধ্যে বেশ কিছু শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিরোধ ও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রভাব
ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যন্ত তৎপরতার সাথে এই হামলার বড় অংশ প্রতিহত করার দাবি করেছে। ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সেনা বাহিনী রাশিয়ার ছোড়া ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০২টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়, যা আরও বড় বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করেছে। মূলত সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে হওয়া তিন দিনের একটি স্বল্পমেয়াদি সংঘর্ষবিরতি শেষ হওয়ার পরপরই পুতিন বাহিনী এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। গত মাসে কিয়েভে রুশ হামলায় ২৫ জনের মৃত্যুর পর ইউক্রেনও পাল্টা আঘাত হেনেছিল, যার জবাবে রাশিয়া এবার আরও আগ্রাসী রূপ ধারণ করল। এই হামলার ফলে ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।