মহারাষ্ট্রের ছায়া এবার বাংলায়, ৫০ বিধায়কের গোপন বৈঠকে তৃণমূল ভাঙার জোর জল্পনা

মহারাষ্ট্রের ছায়া এবার বাংলায়, ৫০ বিধায়কের গোপন বৈঠকে তৃণমূল ভাঙার জোর জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে? দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার তৎপরতা এবং তাঁদের সঙ্গে প্রায় ৫০ জন দলীয় বিধায়কের গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে এই জল্পনা তীব্র হয়েছে। একদিকে যখন দলীয় অস্তিত্ব রক্ষায় ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই কলকাতার বিধায়ক হস্টেল থেকে শুরু করে দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে চলছে একের পর এক গোপন বৈঠক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করার পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে দলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অভিষেক-বিরোধী নতুন গোষ্ঠীর উত্থান ও আই-প্যাক বিতর্ক

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে কলকাতার বিধায়ক হস্টেলে দুই বহিষ্কৃত নেতার সঙ্গে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের বৈঠককে কেন্দ্র করে। সূত্রের খবর, এই গোপন আলোচনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের এক প্রভাবশালী মহিলা বিধায়কও উপস্থিত ছিলেন। যদিও বৈঠকে অংশ নেওয়া এক বিধায়কের দাবি, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছেন না এবং তৃণমূলের পতাকার তলাতেই কাজ করতে চান। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দলের অন্দরে মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক (IPAC)-এর একচ্ছত্র প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। বহিষ্কারের পর থেকেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে অভিষেকের নেতৃত্ব এবং দলের সাংগঠনিক পরিচালনায় আই-প্যাকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আপত্তি ও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, যা এই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে।

বিরোধীদের কটাক্ষ ও তৃণমূলের ‘অপেক্ষা করো এবং দ্যাখো’ নীতি

শাসকদলের এই নজিরবিহীন সংকটের আবহে ঘি ঢেলেছেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। বিধানসভায় প্রবেশের সময় তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূল ভাঙলে তিনি অত্যন্ত খুশি হবেন এবং পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক যদি নতুন নেতা নির্বাচন করেন, তবে দলটির অস্তিত্বই সংকটে পড়বে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিধানসভায় ছুটে গিয়েছেন ফিরহাদ হাকিমের মতো শীর্ষ নেতারা। কুণাল ঘোষের মতো দলের মুখপাত্ররা ঋতব্রত ও সন্দীপনের বিরুদ্ধে হোটেল পলিটিক্সের মাধ্যমে দল ভাঙার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন। এই মুহূর্তে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ বা ‘অপেক্ষা করো এবং দ্যাখো’ নীতি অবলম্বন করছে। তবে ৫০ জন বিধায়কের এই রহস্যজনক গতিবিধি যদি শেষ পর্যন্ত কোনো বড় রাজনৈতিক সমীকরণে রূপ নেয়, তবে তা রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের জন্য এক মহাসংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *