পুরুষ চিকিৎসকের অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা, মেদিনীপুরে চাঞ্চল্য ছড়াল ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে!

পুরুষ চিকিৎসকের অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা, মেদিনীপুরে চাঞ্চল্য ছড়াল ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে!

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকে সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়ে এক নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। একজন বিধবা মহিলার প্রাপ্য ভাতার টাকা মাসের পর মাস জমা হচ্ছিল এলাকারই এক পুরুষ চিকিৎসকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। এই ঘটনা প্রকাশ্য আসতেই পিংলা ব্লকের ক্ষীরাই গ্ৰাম পঞ্চায়েতের যশোরাজপুর এলাকার বাসিন্দা পেশায় চিকিৎসক অমলেন্দু বিকাশ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সরকারি প্রকল্পের টাকা এভাবে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও জালিয়াতির পর্দাফাঁশ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষীরাই গ্রাম পঞ্চায়েতের যশোরাজপুর এলাকার এক বিধবা মহিলা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর প্রাপ্য সরকারি ভাতার টাকা পাচ্ছিলেন না। এই বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই মহিলার প্রাপ্য ভাতার টাকা নিয়মিত অন্য একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। আরও তদন্তের পর জানা যায় যে, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি চিকিৎসক অমলেন্দু বিকাশ মণ্ডলের। এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার গ্রাম পঞ্চায়েতকে জানালেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে পুলিশি হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

ধৃত চিকিৎসক অমলেন্দু বিকাশ মণ্ডল স্বীকার করেছেন যে, তাঁর অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা আসছিল এবং বিষয়টি তিনি জানতেন। তবে কীভাবে এবং কবে থেকে এই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকছিল, তা তাঁর জানা নেই বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে ক্ষীরাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পিয়ালি ধল সিংহ জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনার ফলে সরকারি পোর্টাল বা তথ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের জালিয়াতি অথবা প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসছে। আসল সুবিধাভোগীকে বঞ্চিত করে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাওয়ার এই ঘটনা সরকারি ডাটাবেজের নিরাপত্তা ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ বর্তমানে এটি পরিকল্পিত আর্থিক দুর্নীতি নাকি বড় কোনও প্রশাসনিক ত্রুটি, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *