ডায়মন্ড হারবার মডেলে দিনে-দুপুরে ডাকাতির পর্দাফাঁস, পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার ভূরি ভূরি জব কার্ড!

ডায়মন্ড হারবার মডেলে দিনে-দুপুরে ডাকাতির পর্দাফাঁস, পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার ভূরি ভূরি জব কার্ড!

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে শাসকদলের ভরাডুবির পর এবার বড়সড় ধাক্কা খেল ডায়মন্ড হারবার মডেল। ডায়মন্ড হারবারের দিয়ারক অঞ্চলে জোর করে দখল করা একটি তৃণমূল পার্টি অফিসের তালা ভাঙতেই বেরিয়ে এল সাধারণ মানুষের ১০০ দিনের কাজের বিপুল সংখ্যক জব কার্ড এবং রেশন কার্ড। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। স্থানীয় শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের কষ্টার্জিত একশো দিনের কাজের টাকা দিনের পর দিন ধরে পকেটস্থ করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা।

দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের বিরোধিতা করলেই সাধারণ মানুষের রেশন কার্ড ও জব কার্ড জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখা হতো। শুধু তাই নয়, একশো দিনের কাজের সিংহভাগ টাকাই নেতারা নিজেদের পকেটে পুরতেন এবং সাধারণ শ্রমিকদের হাতে সামান্য কিছু টাকা গুঁজে দেওয়া হতো। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে মঙ্গলবার জমির আসল মালিক স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে নিজের জমি পুনরুদ্ধার করতে যান। সেখানে পার্টি অফিসের তালা ভাঙতেই উদ্ধার হয় আটকে রাখা কার্ডের এই বিপুল সম্ভার।

জোরপূর্বক জমি দখল ও দুর্নীতির নেপথ্যে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিয়ারক অঞ্চলের ওই পার্টি অফিসটি আসলে এক ব্যক্তির জমি জোর করে দখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল। মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এই দুর্নীতির নেপথ্যে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সুবিদ আলী লস্করসহ একাধিক স্থানীয় নেতার সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে রাজপথে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব

এই ঘটনার ফলে ডায়মন্ড হারবার জুড়ে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। তথাকথিত স্বচ্ছ উন্নয়নের যে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ প্রচার করা হতো, এই উদ্ধারকান্ড তার বিশ্বাসযোগ্যতা বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের পাশাপাশি প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার। ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ এই আর্থিক জালিয়াতি ও জোরপূর্বক কার্ড আটকে রাখার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *