সকাল-বিকেলের এক কাপ চায়েই লুকিয়ে আছে সুস্থতার চাবিকাঠি

বাঙালিদের দৈনন্দিন জীবনে চায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। অলস সময় কাটানো হোক কিংবা কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে, এক কাপ চা না হলে যেন চলেই না। চা-প্রেমীদের মতে, দিনভর কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো ক্লান্তিহীন শক্তির যোগান দিতে পারে কেবল এক কাপ চা। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, চা থেকে শরীর কতটা শক্তি ও পুষ্টি পাবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে দিনভর কোন সময়ে এবং কীভাবে চা পান করা হচ্ছে তার ওপর। সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে চা পান করলে অনেক শারীরিক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
দিনের শুরুতে মেটাবলিজম ও একাগ্রতা বৃদ্ধি
দিনের সূচনা এক কাপ গরম চা দিয়ে হলে শরীর সহজেই সজাগ হয়ে ওঠে। এটি মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে তোলে, যা মূলত হজমশক্তিতে দারুণ সাহায্য করে। এর ফলে মানুষের কাজের প্রতি একাগ্রতা বাড়ে এবং দেহ-মন ঝরঝরে হয়ে ওঠে। সকালে চা পানের ফলে স্বাভাবিকভাবে খিদে বাড়ে, যার ফলে সকালের জলখাবার খাওয়ার সময় পেট ভার হওয়ার মতো সমস্যা থাকে না। বরং শরীরের ঠিক কতটুকু খাবার প্রয়োজন, তা সহজে অনুধাবন করা যায়।
ক্লান্তি দূর করতে বিকেলের এক কাপ চুমুক
সারাদিনের ঘরের কাজ কিংবা বাইরের তীব্র ব্যস্ততার পর বিকেল নাগাদ শরীরে ক্লান্তি ভর করা অত্যন্ত স্বাভাবিক। এই অবসাদ ও হতোদ্যম ভাব কাটাতে অনেকেই গরমের দিনেও ঠান্ডা পানীয়ের চেয়ে এক কাপ গরম চা বেশি পছন্দ করেন। দিনশেষে শান্ত মনে চা পান করলে মানসিক চাপ ও মাথাধরা দ্রুত কমে আসে। এটি দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কমিয়ে মনকে শান্ত করে এবং হজমেও সহায়তা করে, যা বাকি সন্ধ্যাটুকু সতেজভাবে কাটানোর মতো স্ফূর্তি জোগায়।
উপকার পেতে সঠিক চা নির্বাচন
সব চায়ের স্বাস্থ্যগুণ সমান নয়। অনেকেই দুধ-চা পছন্দ করলেও এটি শরীরের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। নিয়মিত দুধ-চা পানের ফলে হজমের সমস্যাসহ দীর্ঘমেয়াদে ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম’-এর মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া দিনের শুরুতে খালি পেটে অতিরিক্ত কড়া চা পান করা একদমই অনুচিত।
সুস্থ থাকতে বেছে নেওয়া উচিত হালকা স্বাদের ভেষজ বা হার্বাল টি। সকালে আদা-চা বা লেবু-চা পান করলে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হয়। গ্রিন টি-তে থাকা প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মেটাবলিজম সক্রিয় রাখে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তাৎক্ষণিক শক্তি বা এনার্জি পেতে সাধারণ লিকার চায়ের জুড়ি নেই। অন্যদিকে, রাতে ভালো ঘুমের জন্য ক্যামোমাইল টি, পেটের ভার ভাব কমাতে পেপারমিন্ট টি এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে তুলসী চা অত্যন্ত কার্যকর। তবে যেকোনো খাবারের মতো চাও নির্দিষ্ট মাত্রায় পান করা উচিত, অন্যথায় অতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস শরীরে নতুন রোগের সৃষ্টি করতে পারে।