বিজয়নের বাড়িতে ইডির উপর হামলা: ‘গভীর ষড়যন্ত্র’, তদন্তভার নিজেদের হাতে নিতে মরিয়া কেন্দ্রীয় সংস্থা
June 2, 20266:05 pm

কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে ইডির (ED) আধিকারিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি এখন এই ঘটনার তদন্তে সরাসরি যুক্ত হওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ইডি-র দাবির মূল কারণ:
- হামলার প্রকৃতি: গত মাসে পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে ইডি আধিকারিকরা সিপিএম কর্মীদের বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন। সিআরপিএফ কর্মীদের উপস্থিতিতেই ইডি-র গাড়িতে ইট ছুড়ে কাচ ভাঙার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ইডি আধিকারিক ও পুলিশ কর্মী—উভয়েই আহত হন।
- আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্ত: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কন্যা বীণা টি-র সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস’ এবং ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল’ (CMRL)-এর মধ্যে ১.৭২ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তদন্তেই ইডি ওই তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল।
- তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন: ইডি-র প্রধান উদ্বেগ হলো, এই হামলার তদন্ত যদি কেরালার স্থানীয় পুলিশের হাতে থাকে, তবে নিরপেক্ষ বিচারের আশা ক্ষীণ। কারণ, ইডি-র দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় সিপিএম নেতাদের যোগসূত্র থাকতে পারে এবং হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে ওই নেতাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও যাতায়াত ছিল। এছাড়া, সরকারি আইনজীবীদের নিয়োগ বাম আমলে হওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি আশঙ্কা করছে যে তদন্ত প্রক্রিয়াটিকে প্রভাবিত বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে।
- সন্দেশখালির সাথে তুলনা: পশ্চিমবঙ্গের সন্দেশখালিতে ইডির ওপর হামলার ঘটনার সাথে এই ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সে সময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির ওপর হামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে পিনারাই বিজয়নের ক্ষেত্রে ইডি নিজেরাই এই হামলার তদন্তের আইনি অধিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে, যা বিষয়টিকে আরও জোরালো করেছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থাটির ডিরেক্টরের কাছে ইতিমধ্যেই এই ঘটনার ওপর বিশদ রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। এখন আদালত এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেটাই দেখার বিষয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার এই আইনি পদক্ষেপ কেরালার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।