বাঁশদ্রোণীর স্কুলে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ, ছোট ছেলেকে আর সেখানে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না বাবা

বাঁশদ্রোণীর স্কুলে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ, ছোট ছেলেকে আর সেখানে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না বাবা

কলকাতার বাঁশদ্রোণীর একটি বেসরকারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ুষকুমার নাথের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের চরম গাফিলতিতেই আট বছরের ওই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। এই ঘটনার পর আতঙ্ক ও গভীর অনাস্থা থেকে মৃত ছাত্রের বাবা আশিস নাথ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর ছোট ছেলে আবেশকেও তিনি আর ওই স্কুলে পাঠাবেন না। সন্তানের মৃত্যুর পর স্কুলের নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।

গাফিলতির অভিযোগ ও নির্মম পরিণতি

গত ১৩ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার পর আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল আয়ুষ। অভিযোগ, শ্রেণিশিক্ষিকাকে অসুস্থতার কথা জানানো সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি, এমনকি পরিবারকেও সময়মতো খবর দেওয়া হয়নি। উল্টে তাকে ক্লাসে মাথা নিচু করে বসে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ চার ঘণ্টা ওই অবস্থাতেই কাটে শিশুটির। ছুটির পর সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সে গুরুতর চোট পায়। এরপর হাসপাতালে প্রায় ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৪ মে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা বা খবর দেওয়া হলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতারও করে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মৃতের পরিবার পুলিশের ভূমিকা এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তকারী আধিকারিক পরিবর্তন করে লালবাজারের তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি বেসরকারি স্কুলগুলোর অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা পরিষেবা ও আপৎকালীন ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটিকে জনসমক্ষে এনেছে, যা আগামী দিনে স্কুলগুলোর নজরদারি ও পরিকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি তুলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *