মাসে মাসে ১৫০০ টাকা পেয়েছেন? এবার কি সব টাকা ফেরত দিতে হবে!

মাসে মাসে ১৫০০ টাকা পেয়েছেন? এবার কি সব টাকা ফেরত দিতে হবে!

মহারাষ্ট্র সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘লড়কি বহেন যোজনা’ নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র জল্পনার অবসান ঘটল। দুই বছর আগে শুরু হওয়া এই সরকারি প্রকল্পে সম্প্রতি বিপুল গরমিল ও ই-কেওয়াইসি যাচাইকরণ না হওয়ার কারণে এক ধাক্কায় ৮০ লক্ষ উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চলতি জুন মাস থেকেই তাদের আর্থিক সুবিধা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এর পরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গুঞ্জন ছড়ায় যে, অযোগ্য প্রমাণিত হওয়া এই বিপুল সংখ্যক মহিলাদের কাছ থেকে বিগত দুই বছরের পাওয়া সমস্ত টাকা ফেরত নেওয়া হতে পারে। তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাদের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের থেকে কোনো টাকা ফেরত নেওয়া হবে না। সরকারের এই ঘোষণায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন বাদ পড়া লক্ষাধিক উপভোক্তা।

নজিরবিহীন জালিয়াতি ও গরমিলের খতিয়ান

প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা যাচাই করতে গিয়ে রাজ্য প্রশাসনের চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট এই স্কিমে আবেদন করেছিলেন প্রায় ১৬ হাজার পুরুষ। এখানেই শেষ নয়, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী বয়স ২১ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও, ২১ বছরের কম বয়সী ৭৮ হাজার এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ২ লক্ষ মহিলা অবৈধভাবে এই সুবিধা নিচ্ছিলেন। এছাড়া বার্ষিক আড়াই লক্ষ টাকার আয়ের ঊর্ধ্বসীমা লঙ্ঘন করে ১০ লক্ষ ধনী ও আয়কর দাতা মহিলা এই তালিকায় ঢুকে পড়েছিলেন। সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের সাড়ে চার লক্ষ মহিলা এবং চার চাকার গাড়ি থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২ লক্ষ মানুষ নিয়মের তোয়াক্কা না করে মাসে মাসে সরকারি অনুদান পকেটস্থ করছিলেন। তবে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে ই-কেওয়াইসি না করার কারণে। তিনবার সময়সীমা বাড়িয়ে পাঁচ মাস সময় দেওয়ার পরেও প্রায় ৬২ লক্ষ মহিলা নিজেদের তথ্য আপডেট করেননি।

কারণ ও দূরগামী প্রভাব

সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ অপচয় রোধ এবং প্রকৃত দুস্থ মহিলাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মহারাষ্ট্রের বিজেপি জোট সরকার। নিয়মের কড়াকড়ি এবং প্রযুক্তিগত যাচাইকরণের অভাবেই প্রাথমিক পর্যায়ে ২ কোটি ৪৬ লক্ষ উপভোক্তার এই বিশাল তালিকায় এত বড় গলদ থেকে গিয়েছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই গণ-ছাঁটাইয়ের ফলে রাজ্যের প্রায় ৮০ লক্ষ উপভোক্তা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন, যা গ্রামীণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যে কিছুটা হলেও টান ফেলবে। তবে সরকারের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে যেকোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জালিয়াতি রুখতে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অন্যদিকে, পূর্বের টাকা ফেরত না নেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি আইনি জটিলতা ও সামাজিক ক্ষোভ এড়াতে সরকারকে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *