টেবিলে যন্ত্রণায় ছটফট প্রসূতি, পেট খোলা রেখেই চম্পট চিকিৎসক! সামনে এল ভয়ঙ্কর সত্য

উত্তর প্রদেশের সোনভদ্র জেলায় চিকিৎসায় চরম গাফিলতি ও অমানবিকতার এক ভয়ঙ্কর রূপ সামনে এসেছে। এক অন্তঃসত্ত্বা আশাকর্মীর প্রসব যন্ত্রণা ওঠায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, অস্ত্রোপচারের টেবিলে পেট খোলা অবস্থাতেই ফেলে রেখে পালিয়ে যান এক হাতুড়ে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীরা। অপারেশন টেবিলেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে, তবে সৌভাগ্যক্রমে নবজাতকটি বেঁচে গিয়েছে। মৃত মহিলার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই এক নার্স ও এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। মূল অভিযুক্ত নাসিম আহমেদ নামের ওই হাতুড়ে চিকিৎসক এখনও পলাতক।
দালাল চক্রের ফাঁদ ও লাইসেন্সহীন হাসপাতাল
শনিবার রাতে ওই গর্ভবতী আশাকর্মীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে প্রথমে তাঁকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য একটি সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, মাঝপথেই দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের খপ্পরে পড়ে সরকারি হাসপাতালের বদলে ওই মহিলাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মহিলার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা যখন হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, তখনই প্রকাশ পায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, ওই কথিত হাসপাতালটির কোনও বৈধ লাইসেন্স বা সরকারি অনুমতি ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি চালানো হচ্ছিল।
চিকিৎসক ও পরিকাঠামোর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে অবৈধ হাসপাতালটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কর্মরত চিকিৎসকদের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিনা অনুমতিতে কীভাবে একটি হাসপাতাল দিনের পর দিন চলতে পারল এবং একজন হাতুড়ে ডাক্তার অস্ত্রোপচারের মতো জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সাহস পেলেন, তা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার ফলে গ্রামীণ এলাকায় অবৈধ ক্লিনিক ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের রমরমা ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতার মারাত্মক প্রভাব আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল। পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর এই চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।