টাকা-কাণ্ডের পর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে এবার ‘মোদখানা’র হদিস! ৫ তলায় এসি বেডরুম ও ছাদে মদের বোতল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিক্ষাঙ্গনে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজে এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক কেলেঙ্কারি সামনে এল। কলেজে আর্থিক তছরুপের ঘটনার পর তল্লাশি চালাতে গিয়ে কলেজের পাঁচ তলায় দুটি বিলাসবহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) শয়নকক্ষ বা বেডরুমের সন্ধান মিলল। শুধু শোওয়ার ঘরই নয়, কলেজের ছাদ থেকে মদের বোতল এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কমনরুম থেকে আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের তির কলেজেরই পরিচালন সমিতির এক প্রভাবশালী সদস্য ও তাঁর ছেলের দিকে।
প্রভাবশালী নেতার ‘প্রমোদকানন’ কলেজের পাঁচ তলা!
বিজেপির স্থানীয় মন্ডল সভাপতি স্বরূপ দে রায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন সুরেন্দ্রনাথ কলেজে শোরগোল পড়ে যায়। এরপর কলেজের অধ্যক্ষের (Principal) উপস্থিতিতেই পাঁচ তলার ওই গোপন ঘর দুটির তালা খোলা হয়। দরজা খুলতেই ভেতরে দেখা যায় সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। কলেজের ভেতরেই রীতিমতো তৈরি করা হয়েছিল দুটি চকচকে এসি বেডরুম।
অভিযোগ, কলেজের পরিচালন সমিতির (Governing Body) সদস্য দেবাশিস ব্যানার্জি এবং তাঁর ছেলে শিবাশিস ব্যানার্জি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই ঘর দুটি নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন। এই শোওয়ার ঘরের পাশেই রয়েছে কলেজের ছাদ। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে প্রচুর মদের খালি বোতল। এখানেই শেষ নয়, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবহারের কমনরুমে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় কন্ডোম।
শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা নষ্টের অভিযোগে সরব বিজেপি
এই নজিরবিহীন ঘটনা সামনে আসতেই কলেজের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বও। মন্ডল সভাপতি স্বরূপ দে রায়ের অভিযোগ, “তৃণমূল জমানার দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের কারণে কলকাতার নামী কলেজগুলি কীভাবে কলুষিত হয়েছে, সুরেন্দ্রনাথ কলেজ তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। কলেজের টাকা নয়ছয় করার পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনকে মণ্ডপ ও প্রমোদকাননে পরিণত করা হয়েছিল।”
রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর নতুন সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রের শুদ্ধিকরণে জোর দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কলেজের অধ্যক্ষের সামনেই এই ঘরগুলি খোলার পর, অভিযুক্ত দেবাশিস ব্যানার্জি ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। এই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বর্তমান শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্ব।