সিভিক ভলান্টিয়ারদের চাকরির ভবিষ্যৎ কী? বদলাচ্ছে নিয়ম, বড় সিদ্ধান্তের পথে নতুন সরকার

সিভিক ভলান্টিয়ারদের চাকরির ভবিষ্যৎ কী? বদলাচ্ছে নিয়ম, বড় সিদ্ধান্তের পথে নতুন সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের ঐতিহাসিক পালাবদলের পর রাজ্যের ১ লক্ষ ২৪ হাজার চুক্তিভিত্তিক সিভিক ভলান্টিয়ারের (Civic Volunteers) ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে? নতুন জমানায় তাঁদের চাকরি কি বজায় থাকবে, নাকি বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে— এই নিয়ে রাজ্য জুড়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ইতিমধ্যেই এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ এবং তাঁদের কার্যকারিতা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা শুরু করে দিয়েছে।

তৃণমূল জমানার ১ লক্ষ ২৪ হাজার সিভিক কর্মী

উল্লেখ্য, বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলারক্ষা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার জন্য দফায় দফায় প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা হয়েছিল। সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক এই কর্মীদের স্থায়ীকরণের দাবি দীর্ঘদিনের। বিগত সরকারের আমলে বছর বছর তাঁদের বেতন ও কিছু সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হলেও, চাকরির স্থায়ী স্থায়িত্ব নিয়ে একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন বরাবরই থেকে গিয়েছিল। এবার রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চলেছে বর্তমান প্রশাসন।

স্থায়ী অফিসার ও কনস্টেবল নিয়োগের পক্ষে পুলিশ বাহিনী

পরিবহণ ও আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সিভিকদের ভূমিকা থাকলেও, পুলিশ প্রশাসনের একাংশের মধ্যে তাঁদের নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, পুলিশ মহলের একটি বড় অংশ চাইছে যে চুক্তিভিত্তিক সিভিক ভলান্টিয়ারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে এবার পুলিশ বাহিনীতে স্থায়ী পদে কর্মী নিয়োগ করা হোক। আইনশৃঙ্খলার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সিভিকদের আইনি সীমাবদ্ধতা থাকায়, তাঁদের পরিবর্তে রাজ্য পুলিশে পর্যাপ্ত সংখ্যায় স্থায়ী অফিসার ও কনস্টেবল নিয়োগ করার পক্ষে মত দিয়েছেন বহু শীর্ষ পুলিশ কর্তা। এতে বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং কাজের গতি আরও বাড়বে বলে তাঁদের অনুমান।

পথ খুঁজছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের সমস্ত দফতরের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও তাঁদের বেতন কাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১ লক্ষ ২৪ হাজার পরিবারের রুটি-রুজির প্রশ্ন জড়িয়ে থাকায়, হুট করে কোনো চরম সিদ্ধান্ত না নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক দিক বজায় রেখে মাঝখানের একটি রাস্তা খোঁজার চেষ্টা করছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সিভিক ভলান্টিয়ারদের স্ক্রিনিং বা নতুন করে যোগ্যতা যাচাই করে তাঁদের অন্য কোনো খণ্ডকালীন সরকারি কাজে ব্যবহার করা যায় কি না, নাকি ধাপে ধাপে স্থায়ী পুলিশ কর্মী নিয়োগের দিকেই সরকার এগোবে— জুনের এই শুরুতেই তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে ফাইল নড়াচড়া শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *