সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভবিষ্যৎ কী? নতুন সরকারের পরিকল্পনায় কী রয়েছে?

সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে জল্পনা
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে কর্মরত ১ লক্ষ ২৪ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। মমতা ব্যানার্জির সরকারের আমলে মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তার লক্ষ্যে এই বিপুল সংখ্যক কর্মীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতি বছর তাঁদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি কার্যকর থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই বিশাল কর্মীবাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এখন এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কাজের ধরন ও নিয়োগের আইনি জটিলতা খতিয়ে দেখতে উদ্যোগী হয়েছে।
বাহিনীর কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নানা মত উঠে আসছে। পুলিশের একটি বড় অংশ মনে করছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুশৃঙ্খল করতে চুক্তিভিত্তিক সিভিক ভলান্টিয়ারদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থায়ী পুলিশ বাহিনীতে অফিসার ও কনস্টেবল নিয়োগ করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থায়ী পুলিশ সদস্য নিয়োগ করলে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ এই মতামতের প্রেক্ষিতে সিভিক ভলান্টিয়ারদের কর্মসংস্থান দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে মূলত আইনি কাঠামো ও কর্মপদ্ধতির সীমাবদ্ধতা। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে যেমন আইনি চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি নিয়মিত পুলিশের অভাব পূরণে সিভিকদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা নিয়েও বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার যদি চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ছাঁটাই করে নতুন করে স্থায়ী নিয়োগের পথে হাঁটে, তবে তা বিপুল কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবার, বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তন না করা হলে প্রশাসনিক মানোন্নয়নের বিষয়টিও থমকে থাকতে পারে। সব মিলিয়ে, রাজ্য সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই ১ লক্ষ ২৪ হাজার কর্মীর পেশাগত ভবিষ্যৎ।