নিজের দলেরই ‘তোলাবাজ’ কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় বিজেপির বিধায়ক রাজু পাত্র
নিজ দলের কর্মীদের তোলাবাজিতে অতিষ্ঠ বিজেপি বিধায়ক!
গলসির বিভিন্ন রাইস মিল ও বালিঘাটে ‘তৎকাল’ বিজেপি কর্মীদের দৌরাত্ম্য ও তোলাবাজির ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। খোদ বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্রের নাম ভাঙিয়ে এই বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামলাতে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় অবশেষে অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি করে গলসি থানায় নালিশ জানালেন খোদ বিধায়ক।
ভেকধারী কর্মীদের দাপট ও প্রশাসনের দ্বারস্থ বিধায়ক
দলের নাম করে বা বিধায়কের পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করছে বলে অভিযোগ। বিধায়কের দাবি, ৪ মে পরবর্তী সময়ে তৃণমূল ও সিপিএম থেকে দলে আসা কিছু কর্মী বিজেপির গেরুয়া আবির মেখে তোলাবাজিতে নেমেছে। এই ‘তৎকাল’ বিজেপি কর্মীরা রাইস মিলের মালিক এবং বালিঘাটের ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যবসার ১০ শতাংশ শেয়ার দাবি করছে। এমনকি, সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীর রাইস মিলে গিয়ে বুলডোজার চালানোর হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে গলসি থানার ওসির সাথে দেখা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন রাজু পাত্র।
তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ ও এলাকাবাসীর প্রতি বার্তা
শুধু বিধায়ক নন, গলসি-২ ব্লকের মন্ডল সভাপতি বিজয় ধারাও জানিয়েছেন, শিল্যা ও সোদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির বিজয় মিছিলের নাম করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। দলের অন্দরের এই দুর্নীতি নিয়ে বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপির রং গেরুয়া, যা ত্যাগের প্রতীক। যারা অনৈতিক ভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছে বা ব্যবসায়ীদের হুমকি দিচ্ছে, তাদের বিজেপির কর্মী হিসেবে গণ্য করা যায় না। যে কোনো প্রকার জোরজুলুম বা তোলাবাজির খবর সরাসরি তাকে জানানোর জন্য এলাকাবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন বিধায়ক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দিয়ে বুলডোজার চালানোর হুঁশিয়ারি দিলেও, বৈধ ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় তিনি আপসহীন অবস্থানে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এই ঘটনায় বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্বস্তি বাড়ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন নজর এলাকাবাসীর।