খড়্গপুরের বাম নেতার ওপর হামলার বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ ছেলে, তৎপর পুলিশ

বাবার ওপর হামলার ঘটনায় এবার মুখ্যমন্ত্রীর দরজায় ছেলের আরজি
খড়্গপুরের প্রবীণ সিপিএম নেতা অনিল দাস ওরফে ভীমকে প্রকাশ্য রাস্তায় মারধর ও হেনস্থার ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত বিচার। গত বছর খড়্গপুর শহরে সংঘটিত সেই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী নেতার পুত্র অনিরুদ্ধ দাস। মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করে এই বিষয়ে নালিশ জানিয়েছেন তিনি।
পুরানো সেই হামলার প্রেক্ষাপট
গত বছরের ৩০ জুন খড়্গপুরের খরিদায় এলাকার এক মহিলার বাড়ির পাঁচিল ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন অনিল দাস। সেই সূত্র ধরেই তৎকালীন তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলে ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে প্রবীণ এই নেতাকে প্রকাশ্য রাস্তায় ফেলে জুতোপেটা করার অভিযোগ ওঠে। প্রাণে বাঁচতে অনিল দাস একটি রঙের দোকানে আশ্রয় নিলেও তাঁকে নিস্তার দেওয়া হয়নি; উল্টো তাঁর গায়ে রং ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অভিযুক্ত নেত্রীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পর অভিযুক্ত আদালতের মাধ্যমে আগাম জামিন পেয়ে যান। এরপর থেকে তদন্তের গতি থমকে যাওয়ায় বিচারের আশায় পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ আইনি লড়াই ও মানসিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রশাসনের তৎপরতা ও প্রত্যাশা
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই অনিল দাসের পরিবার নতুন করে বিচারের স্বপ্ন দেখছে। ঘটনার সুবিচার চেয়ে অনিরুদ্ধ দাস এবং তাঁর মা সুস্মিতা দাস পৃথকভাবে মুখ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে চিঠি দিয়েছিলেন। অনিরুদ্ধর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ অভিযোগ জানানোর পরই প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই তড়িঘড়ি খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ আধিকারিকরা অনিল দাসের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। পরিবারের সদস্যদের কথায়, নতুন সরকারের প্রধানের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁদের এবং এবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী।