মোথাবাড়ি কাণ্ডে চরম তৎপরতা, ৫৯ দিনেই ৩১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে বিস্ফোরক চার্জশিট এনআইএ-র!

মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ঘটনার মাত্র ৫৯ দিনের মাথায় কলকাতার নগর দায়রা আদালতের বিশেষ এনআইএ বেঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। মোফাক্কেরুল ইসলাম এবং একরামুল বাদনানি সহ মোট ৩১ জনের নাম উঠে এসেছে এই প্রাথমিক আইনি নথিতে। বিডিও অফিসের ভেতরে ঢুকে বিচারকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা এবং হেনস্তার মতো গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিচারের দাবিতে উত্তাল মোথাবাড়ি এবং তদন্তের অগ্রগতি
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় কালিয়াচকের মোথাবাড়ি এলাকা। উত্তেজিত জনতা বিডিও অফিসের ভেতরে ঢুকে কর্তব্যরত বিচারকদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। এর মধ্যে মহিলা বিচারকরাও ছিলেন। এই নজিরবিহীন হেনস্তার ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। মোথাবাড়ি কাণ্ডে দায়ের হওয়া মোট ১২টি মামলার মধ্যে মঙ্গলবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারক সুদীপ্ত কুমার দে’র বেঞ্চে ৪টি মামলার চার্জশিট পেশ করা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলা কালিয়াচক থানার এবং দুটি মোথাবাড়ি থানার অধীনস্থ।
আইনি ধারা ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
পেশ করা চারটি পৃথক চার্জশিটে যথাক্রমে ৩, ১৫, ১০ এবং ৩ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে, যার মধ্যে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মোফাক্কেরুল ইসলাম ও একরামুল বাদনানিকে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৬(২), ১৮৯(২), ১৮৯(১), ১৯৫(১), ২২১, ২২৩, ২২৪ এবং ৩৫১(২) ধারায় অত্যন্ত কঠোর অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, ঘটনার পর থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে এই চার্জশিট গঠন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কাজে বাধা এবং বিচার বিভাগের আধিকারিকদের ওপর এই ধরণের হামলার ঘটনায় এত দ্রুত চার্জশিট পেশের ফলে এলাকায় অপরাধমূলক কার্যকলাপে যুক্তদের মধ্যে একটি কড়া বার্তা পৌঁছাবে। একই সাথে বাকি ৮টি মামলার তদন্তপ্রক্রিয়াও গতি পাবে, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।