ধর্মতলার ধর্নায় চেনা ভিড় উধাও, ইন্দিরা গান্ধীর উদাহরণ টেনে তৃণমূল কর্মীদের ভোকাল টনিক মমতার
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথম জনসমক্ষে এসে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচি পালন করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে যে বিপুল জনসমুদ্র দেখতে অভ্যস্ত রাজনৈতিক মহল, তৃণমূলের ক্ষমতাচ্যুতির মাত্র ২৮ দিনের মাথায় সেই চেনা চিত্র সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেল। মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে মেরেকেটে হাজার দুয়েক সমর্থক নিয়ে অবস্থান শুরু করলেও, সন্ধ্যার মুখে তা কয়েকশোতে গিয়ে ঠেকে। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হওয়ার পর মমতার কোনো কর্মসূচিতে এত কম মানুষের উপস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি বলে মনে করছেন খোদ দলীয় নেতারাই। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের পতনের পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রথম সভায় যেখানে তিনটি চ্যানেল উপচে পড়েছিল, সেখানে তৃণমূলের এই প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচিতে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিও ছিল অত্যন্ত নগণ্য। ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন বা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদকে এদিন মঞ্চে দেখা গেছে।
পরাজয়ের কারণ নিয়ে কর্মীদের ক্ষোভ ও মমতার রাজনৈতিক বার্তা
এই ভাঙা হাটের মধ্যেই হ্যান্ড হেল্ড মাইক হাতে নিয়ে দলের কর্মীদের চাঙ্গা করার মরিয়া চেষ্টা চালান রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) পরাজিত করার ডাক দিয়ে তিনি ‘করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে’ এবং ‘জিয়েঙ্গে তো বিজেপিকো হঠাকে যায়েঙ্গে’ স্লোগান তোলেন। কর্মীদের মনোবল ফেরাতে ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধীর পরাজয় ও মাত্র দুই বছরের মধ্যে তাঁর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে আনেন তিনি। তবে মাইকের আওয়াজ কম থাকায় উপস্থিত সমর্থকদের অনেকেই তাঁর ভাষণ ঠিকমতো শুনতে পাননি। উল্টে সভাস্থলেই দলের কর্মীদের একাংশকে তোলাবাজি, নেতাদের দম্ভ ও ঔদ্ধত্যের মতো বিষয়গুলিকে সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে নিজেদের মধ্যে তর্কে মেতে উঠতে দেখা যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট-পরবর্তী হিংসা, দলীয় কর্মীদের গ্রেপ্তার, হকার উচ্ছেদ এবং তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলিকে কাজ করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হন।
বিরোধী শিবিরের তীব্র কটাক্ষ ও ভবিষ্যৎ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সভায় এই নজিরবিহীন শূন্যতা দেখে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুগলির তারকেশ্বর থেকে তিনি মন্তব্য করেন যে, সাংবাদিকরাই ছিলেন দুইশোর মতো, তাঁরা না থাকলে আরও করুণ অবস্থা হতো। দলটার অবস্থা এখন ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মমতার দিল্লি আন্দোলনের হুঁশিয়ারিকে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, তৃণমূলের খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। পুলিশ রানি রাসমণি অ্যাভেনিউতে সভার অনুমতি না দেওয়ায় এদিন ওয়াই চ্যানেলের বাসযাত্রী শেডের তলায় বসেই অবস্থান চালান মমতা। আগামী দিনে পুলিশি বাধা এড়াতে কাউকে না জানিয়ে হুট করে কর্মসূচিতে যাওয়ার কথা ঘোষণা করার পাশাপাশি, লালবাজার যদি ভবিষ্যতে অন্য কোনো দলকে রানি রাসমণি অ্যাভেনিউতে অনুমতি দেয়, তবে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।