বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে বুধের বৈঠকে যাচ্ছেন ঋতব্রত, দল হাইজ্যাকের অভিযোগে অস্বস্তিতে তৃণমূল

বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে বুধের বৈঠকে যাচ্ছেন ঋতব্রত, দল হাইজ্যাকের অভিযোগে অস্বস্তিতে তৃণমূল

বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই এবার তৃণমূলের অন্দরের তীব্র ফাটল একেবারে প্রকাশ্য রাজপথে চলে এল। গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দে জোর জল্পনা চলছিল বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে ঘিরে। মঙ্গলবার সেই জল্পনার পারদ চড়ল আরও কয়েক গুণ, যা শাসক শিবিরের অস্বস্তি চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

জল্পনা উড়িয়েও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় ঢুকতে দেখেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। গুঞ্জন উঠেছিল, প্রায় ৫০ জন অসন্তুষ্ট তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে তিনি স্পিকারের কাছে জমা দিতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্পিকারের ঘরে না গিয়ে নিজেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ঋতব্রত। ৫০ বিধায়কের চিঠির জল্পনা উড়িয়ে দিলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেও দলের বর্তমান অবস্থার কড়া সমালোচনা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় নেত্রী এবং তিনিই তাঁর নেত্রী। কিন্তু বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দল হাইজ্যাক হয়ে গেছে।

প্রশাসনিক বৈঠক ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

মঙ্গলবার বিধানসভা থেকে বেরোনোর সময় ঋতব্রত সাফ জানিয়ে দেন, বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর যে প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয়েছে, সেখানে তিনি নিশ্চিতভাবে যোগ দেবেন। শুধু তাই নয়, তাঁর জেলার বেশিরভাগ বিধায়কও যে ওই বৈঠকে হাজির থাকবেন, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি গত সোমবার এমএলএ হস্টেলে শিউলি সাহা এবং জাভেদ খানের মতো দলের প্রবীণ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে তাঁর একটি ঘরোয়া বৈঠক হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ঋতব্রত।

ভোটের বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে নির্দিষ্ট কিছু নেতার দাপট এবং একনায়কতন্ত্রের কারণেই মূলত এই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার প্রভাবে আগামী দিনে দলের অন্দরে বিক্ষুব্ধ শিবির আরও শক্তিশালী হতে পারে, যা তৃণমূলের সাংগঠনিক ঐক্য ও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *