সিবিএসই-র ওএসএম বিতর্কে বড় ধাক্কা, চেয়ারম্যান ও সচিবকে সরাল কেন্দ্র, শুরু উচ্চপর্যায়ের তদন্ত

সিবিএসই-র ওএসএম বিতর্কে বড় ধাক্কা, চেয়ারম্যান ও সচিবকে সরাল কেন্দ্র, শুরু উচ্চপর্যায়ের তদন্ত

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই-র অনলাইন মূল্যায়ন ব্যবস্থা (OSM) নিয়ে দেশজুড়ে চলা তীব্র বিতর্কের মাঝেই এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। বোর্ডের চেয়ারম্যান রাহুল সিং এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওএসএম পরিষেবা কেনা এবং চুক্তি প্রক্রিয়া নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে সিবিএসই-র ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এবার সরাসরি আইনি ও সরকারি তদন্তের পরিধিতে চলে এল।

বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিবিএসই-র অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা নিয়ে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছিল। বিশেষ করে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ফল প্রকাশের পর বহু পড়ুয়া অভিযোগ তোলেন যে তাঁদের উত্তরপত্রের স্ক্যান কপিতে ঝাপসা পৃষ্ঠা, আসাম্পূর্ণ অংশ এবং কিছু ক্ষেত্রে পাতা গায়েব ছিল। এর পাশাপাশি বোর্ডের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার ও পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক গুরুতর কারিগরি সমস্যা সামনে আসে। ১৬ হাজারেরও বেশি রিভ্যালুয়েশন আবেদনের পাশাপাশি ২ মিনিটে ১৫ লক্ষ বার সাইবার হামলার চেষ্টার মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

নেপথ্যের কারণ ও শীর্ষস্তরে রদবদল

মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার এই চরম অব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত ব্যর্থতার দায় সরাসরি এসে পড়েছে বোর্ডের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। চেয়ারম্যান রাহুল সিং বোর্ডের পরীক্ষা, শিক্ষানীতি ও স্কুল অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক কাজের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে সচিব হিমাংশু গুপ্ত সামলাতেন বোর্ডের প্রশাসন, অর্থ এবং দৈনন্দিন পরিচালনার কাজ। ওএসএম বিতর্কের জেরে তৈরি হওয়া দেশজোড়া ক্ষোভের মুখে কেন্দ্র এই দু’জনকেই অবিলম্বে অন্যত্র বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু তাই নয়, কোয়েম্পটের মতো অনামী সংস্থাকে টিসিএস-এর চেয়ে ৫০০ কোটি টাকা কম ও বাড়তি ২ নম্বরের ফারাক দেখিয়ে বরাত দেওয়ার বিষয়টিও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

তদন্তের নির্দেশ ও সম্ভাব্য প্রভাব

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্র শুধু বদলির সিদ্ধান্তেই থমকে থাকেনি, বরং ওএসএম পরিষেবা কেনার পুরো প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখতে এক সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশনের চেয়ারপার্সন এস রাধা চৌহানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপের ফলে দেশের অন্যতম বৃহত্তম স্কুল শিক্ষা বোর্ডের মূল্যায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা এবং জবাবদিহি নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে। ওএসএম বিতর্কের জেরে বোর্ডের ভাবমূর্তি যেভাবে ধাক্কা খেয়েছে, এই তদন্তের মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সাথে আগামী দিনে বোর্ডের ডিজিটাল চুক্তি এবং বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি কড়াকড়ি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *