‘বিকল্প ছাড়া উচ্ছেদ নয়’, যাদবপুরে মাঝরাতের রণক্ষেত্রে রুখে দাঁড়াল বামেরা

‘বিকল্প ছাড়া উচ্ছেদ নয়’, যাদবপুরে মাঝরাতের রণক্ষেত্রে রুখে দাঁড়াল বামেরা

বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ নয়! যাদবপুরে বুলডোজার রুখে আপাতত স্বস্তি হকারদের

মাঝরাতে বুলডোজার নিয়ে যাদবপুর স্টেশন চত্বরে রেলের আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা আপাতত থিতিয়ে এসেছে। স্থানীয় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে পড়ে এবং বাম নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে আপাতত দোকান ভাঙার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ব্যবসায়ীরা।

বিকল্প পুনর্বাসনের দাবিতে অনড় আন্দোলন

মঙ্গলবার রাতে আচমকা বুলডোজার নিয়ে পুলিশ ও রেলের তৎপরতায় স্টেশন চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বাম যুব নেতা সৃজন ভট্টাচার্যসহ কর্মী-সমর্থকরা। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর রেল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপাতত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ থাকছে। সৃজন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আগামী তিন সপ্তাহ সময় পাওয়া গেছে এবং এর মধ্যে হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়ে আলোচনা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ১৯৮৮ সালের আদালতের রায় অনুযায়ী, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে কাউকে উচ্ছেদ করা আইনত সম্ভব নয়। পুনর্বাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

উচ্ছেদের কারণ ও পরবর্তী পরিস্থিতি

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্টেশন চত্বরের বেআইনি দখলদারি সরাতে তারা দীর্ঘদিন ধরেই তৎপর। এর আগে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনেও বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। তবে যাদবপুরের ঘটনায় আগাম নোটিশ ছাড়াই অভিযান চালানোর অভিযোগে ক্ষোভ বেড়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং বেআইনি নির্মাণ রুখতেই রেল এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের এই প্রবণতা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রুজি-রুটির ওপর বড় আঘাত আনছে বলে মত সচেতন মহলের। এখন দেখার বিষয়, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসন ও হকারদের আলোচনায় কোনো স্থায়ী সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *