ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাঙ্গনে এসি বেডরুম ও উইয়ে খাওয়া টাকার পাহাড়, চরম বিতর্কে কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ
.jpg.webp?w=900&resize=900,596&ssl=1)
কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার ওই ঘরের তালা ভেঙে দুটি স্যুটকেস ভর্তি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার বান্ডিল উদ্ধার হয়। দীর্ঘদিন বদ্ধ ঘরে থাকায় উদ্ধার হওয়া টাকার একটি বড় অংশই উইপোকায় কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। এই ঘটনার পাশাপাশি কলেজের পাঁচতলায় বহিরাগত রাজনৈতিক নেতাদের প্রমোদকক্ষ এবং বিলাসবহুল এসি বেডরুমের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে আসায় চরম বিতর্কের মুখে পড়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষাঙ্গনে প্রমোদকক্ষ ও চাবি রহস্য
অভিযোগ উঠেছে, গত ৬-৭ মাস আগে কলেজের পাঁচতলার ঘরগুলিকে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল বেডরুমে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এই ঘরে আলমারি, গদি, বালিশ ও কম্বলসহ আরামের সবরকম ব্যবস্থা রাখা ছিল। এই ঘরগুলির চাবি থাকত ছাত্র ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে। গত ৪ জুন নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রহস্যজনকভাবে ইউনিয়ন রুমের চাবি গায়েব করে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার পুরসভার সাফাই কর্মীরা ঘর পরিষ্কার করতে এলে চাবি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তালা ভাঙা হয়। তখনই কোণ থেকে উদ্ধার হয় টাকা ভর্তি ওই দুটি স্যুটকেস। ঘটনার খবর পেয়েই মুচিপাড়া থানার পুলিশ এসে টাকা ও বেশ কিছু ভাউচার বাজেয়াপ্ত করে।
অবৈধ কার্যকলাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কলেজের একাংশের দাবি, পাঁচতলার ওই ঘর ও সংলগ্ন ছাদে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অসামাজিক ও নেশার আসর বসত। ছাদ থেকে প্রায়ই মদের বোতলসহ বিভিন্ন নেশার দ্রব্য মিললেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া ভাউচারগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন খাত থেকে অবৈধভাবে এই বিপুল অর্থ তোলা হয়েছিল এবং চাবি গায়েব করে দিয়ে তা লোপাটের চেষ্টা চলছিল। শিক্ষাঙ্গনের ভেতরে এই ধরনের অনৈতিক আর্থিক লেনদেন এবং বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত কলেজের স্বাভাবিক পঠনপাঠনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে। এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর পেছনে কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনো পরোক্ষ মদত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।