রিকশাওয়ালার ছেলের আইএএস হওয়ার অবিশ্বাস্য লড়াই, অপমানের জবাব দিল সাফল্যের শিখরে পৌঁছে!

অপমানের জ্বালা ঘুচিয়ে রিকশাচালকের ছেলের আইএএস হওয়ার অদম্য লড়াই
বারাণসীর এক অতি সাধারণ রিকশাচালকের পরিবারে জন্ম নেওয়া গোবিন্দ জয়সওয়ালের জীবন বদলে দেওয়ার পেছনে ছিল এক চরম অপমান। মাত্র ১১ বছর বয়সে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে গোবিন্দকে শুনতে হয়েছিল, “রিকশাওয়ালার ছেলে তো, বড় হয়ে রিকশাই চালাবি!” সমাজের সেই অবজ্ঞাসূচক কথাগুলোই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অপমানের সেই ক্ষতকে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে গোবিন্দ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, শিক্ষার আলো দিয়েই তিনি নিজের পরিচয় তৈরি করবেন।
সংগ্রাম ও সাফল্যের উপাখ্যান
সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাকে হারিয়েও লড়াই থামাননি তিনি। অভাবের তাড়নায় পড়ার টেবিল গোছানো কঠিন হলেও, ইউপিএসসি পরীক্ষার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। ছেলের স্বপ্নপূরণে পরিবারের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে দিয়েছিলেন তার বাবা। দিল্লির প্রতিকূল পরিবেশে দিনের পর দিন অর্ধাহারে থেকে, টিউশনি করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন গোবিন্দ। সেই অদম্য জেদ আর কঠোর পরিশ্রমের ফল আসে ২০০৬ সালে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে প্রথম প্রচেষ্টাতেই সর্বভারতীয় স্তরে ৪৮তম স্থান অধিকার করে আইএএস কর্মকর্তা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।
গোবিন্দ জয়সওয়ালের এই যাত্রা চরম দারিদ্র্যকে জয় করার এক বাস্তব উদাহরণ। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সামাজিক বাধা বা আর্থিক অসচ্ছলতা সাফল্যের পথে কখনো প্রকৃত অন্তরায় হতে পারে না। বর্তমানে দিল্লির কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তা, দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ স্বপ্নদ্রষ্টা তরুণের কাছে এক উজ্জ্বল প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।