তৃণমূল কার্যালয় থেকেই ৩০০ কোটির লক্ষ্মীর ভাণ্ডার উধাও!

রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, খোদ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়কে ব্যবহার করে এই প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জালিয়াতির এই অঙ্ক প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
যেভাবে চলত এই বিশাল জালিয়াতি চক্র
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এই দুর্নীতির জাল অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বোনা হয়েছিল। মূলত ভুয়ো এবং মৃত ব্যক্তিদের সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রথমে অসংখ্য জাল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়। এর পাশাপাশি, প্রকল্পের আসল আবেদনকারীদের ফর্মে সুকৌশলে জেনুইন উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল নম্বর বসিয়ে দেওয়া হতো। ফলে প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ সরাসরি চলে যেত অভিযুক্তদের পকেটে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের একাংশের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
তিন জেলায় ছড়িয়েছে জালিয়াতির জাল
এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারিটি কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তদন্তে প্রকাশ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই চক্র সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। ব্যাংক কর্মকর্তাদের একাংশকে হাত করে সরকারি পোর্টালের তথ্য পরিবর্তন এবং ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ নির্বিঘ্নে চালানো হতো।
কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
নজরদারির অভাব এবং স্থানীয় স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহারই এই দুর্নীতির মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই ঘটনার ফলে প্রকৃত এবং দুস্থ উপভোক্তারা তাদের প্রাপ্য সরকারি আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। একই সাথে সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। বর্তমানে এই চক্রের মূল হোতাদের এবং এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে, যারা তিন জেলা জুড়েই জোরকদমে তল্লাশি ও তদন্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।